বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ২৯ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত পিএম শ্রী পোয়াংবাড়ি ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুল বর্তমানে চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা ও উন্নত পরিকাঠামোর প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকলেও, বাস্তবে বিদ্যালয়টির পরিবেশ এখন নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। হোস্টেল নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ে নির্মীয়মাণ হোস্টেলের জন্য প্রতিদিন জেসিবি ও ট্রিপার গাড়ির মাধ্যমে মাটি কাটার ও বহনের কাজ চলছে। নির্মাণস্থল থেকে কাদা ও মাটি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি সেই কাদা সরাসরি শ্রেণীকক্ষেও প্রবেশ করায় অনেক কক্ষেই শিক্ষার্থীদের বসে পাঠগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন ট্রাক দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা, প্রার্থনা কিংবা টিফিনের সময় অবাধে চলাফেরার সুযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও মাঠ থেকে গাড়িগুলি সরানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং মাঠের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখা হচ্ছে।
এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম সারির পিএম শ্রী (PM SHRI) ইংলিশ মিডিয়াম বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও স্কুল চত্বরে বা সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যালয়ের পরিচয় বহনকারী কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে বাইরের মানুষ কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আগত অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের বিদ্যালয়টি খুঁজে পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যখন পিএম শ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, তখন নির্মাণকাজে ঠিকাদারের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ নষ্ট হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে শিক্ষা দপ্তর, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থা এবং মহকুমা প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রয়োজনে এটিকে আরও অনুসন্ধানমূলক বা প্রথম পাতার সংবাদপত্রের ভাষায় আরও জোরালোভাবে সম্পাদনা করে দিতে পারি।
