খোয়াই জেলা স্তরের ‘গুরু পূর্ণিমা উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত, অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ, দেরিতে শুরু হওয়ায় ভোগান্তিতে খুদে পড়ুয়ারা

গোপল সিং, খোয়াই, ২৯ জুলাই || খোয়াই জেলা স্থিত নতুন টাউন হলে আজ মহাসমারোহে জেলা স্তরের ‘গুরু পূর্ণিমা ও গুরু সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং খোয়াই জেলা কালচারাল অ্যাডভাইজরি কমিটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের এই বড় মাপের অনুষ্ঠানকে ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, আয়োজকদের উদাসীনতায় তা গড়াতে গড়াতে দুপুর ১টায় শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়। সচেতন মহলের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের বড় কর্মসূচির ক্ষেত্রে আয়োজকদের সময়ানুবর্তিতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অনুষ্ঠান শুরু হলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের বুঁকে ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর তথ্য ও পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক দুলাল দেববর্মা স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের বন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধূরী এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সজল দেবনাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা এবং খোয়াই আর. ডি. ব্লকের এস. সি. সাব-কমিটির চেয়ারম্যান সমীর কুমার দাস। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সত্যেন্দ্র দাস।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত অতিথিরা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে শিক্ষাগুরুর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধূরী তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের এই বহু প্রাচীন গুরু-শিষ্য পরম্পরা যেন পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত এভাবে অক্ষুণ্ণ থাকে। অন্যদিকে, মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার পাঠ দিয়ে বলেন, “জীবনে যদি সফল হতে হয়, তবে শৃঙ্খলা মেনে চলার কোনো বিকল্প বা শর্টকাট রাস্তা নেই।” গুরু পূর্ণিমার এই পুণ্য লগ্নে প্রাচীন ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এই সংবর্ধনা পর্বের পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সকালের দীর্ঘ ক্লান্তিকে ভুলে খুদে পড়ুয়ারা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে এই আনন্দঘন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*