গোপল সিং, খোয়াই, ৩০ জুলাই || খোয়াই জেলাকে আধুনিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনজাতি বিকাশ এবং নারী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭টি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার খোয়াই নতুন টাউন হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘শহীদ ভগৎ সিং জিমনেশিয়াম’ এবং ‘শৈশব ও আনন্দদায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র’-এর উদ্বোধন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম। এর মাধ্যমে খোয়াই জেলা গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী এআই-পরিচালিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শিশুদের জন্য চালু হওয়া আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানও পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি খোয়াই জেলায় একটি শববাহী যান এবং অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ পরিষেবা যানবাহনেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
এদিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭টি ওপিডি কিট বিতরণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার হাসপাতালগুলিতে অত্যাধুনিক ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। তিনি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খোয়াই জেলা হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এছাড়া নির্মীয়মাণ খোয়াই-আগরতলা (ভায়া সুবল সিং) জাতীয় সড়ক নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে এবং কখন কার গাড়ি আটকে যায়, তা ক্যামেরাবন্দি করার অপেক্ষায় থাকে।
তিনি জানান, জাতীয় সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে নিয়মিত ভিডিও ও তথ্য পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মাটি অত্যন্ত নরম এবং বছরে প্রায় আট মাস বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাস্তা নির্মাণে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে একাধিক ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি এদিন কোনো মন্তব্য করেননি।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সামাজিক শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সামাজিক শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় (দত্ত), কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, এসসি সাব-কমিটির সদস্য সমীর দাস, জেলা পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য অনুকূল দাস, এনএইচএম-এর মিশন ডিরেক্টর সাজু ওয়াহিদ এ, খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার বি. জগদীশ্বর রেড্ডি-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
