নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ৩০ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমে সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাব্রুম চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার (সিডিপিও) কার্যালয়ে ডেপুটেশন প্রদান করেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। এদিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সিডিপিও সপ্তদীপা দে-র হাতে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা ও ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু সেই দাবিগুলির বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে ডেপুটেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এদিনের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পার্বতী থাপা, ঝর্না চক্রবর্তী, সহায়িকা সোমা চক্রবর্তী এবং ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা ঐক্য সমিতির রাজ্য কমিটির সদস্যা লক্ষীরানী দে বসুসহ অন্যান্য কর্মী-সহায়িকারা।
তবে ডেপুটেশন কর্মসূচিকে ঘিরে একটি বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে সিডিপিও সপ্তদীপা দে বাধা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উদ্দেশেও প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাব্রুমের সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ডেপুটেশনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহে সাধারণত কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয় না। সেই প্রেক্ষাপটে সাব্রুমে সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সিডিপিও সপ্তদীপা দে-র পক্ষ থেকে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
