বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগে ১৭টি গরু আটক, দুই বোলেরো জব্দ; তদন্তে বাইখোড়া থানার পুলিশ

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ৩১ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরার বাইখোড়া থানার পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সন্দেহে ১৭টি গরু আটক করা হয়েছে। এ সময় দুটি বোলেরো গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাইখোড়া থানার সেকেন্ড অফিসার বিরজিত দাসের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে TR-03E-1600 এবং TR-08A-1612 নম্বরের দুটি বোলেরো গাড়ি থেকে মোট ১৭টি গরু উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়ি দুটিসহ গরুগুলো থানায় নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া গরুগুলো লাউলাং এলাকার সপন দত্ত নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বাইখোড়া ও পোয়াংবাড়ী এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই কাজে তপন ত্রিপুরা ও তপু নামে দুই ব্যক্তি জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া, গরুগুলো বাংলাদেশের মিনার মিয়া ও রামগড় এলাকার বিল্টু মিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাইখোড়া থানার সাবেক ওসি বিষ্ণুচন্দ্র দাসের কর্মকালেও এলাকায় গরু পাচারের ঘটনা ঘটত। এমনকি মাসিক লেনদেনের মাধ্যমে পাচারচক্র পরিচালিত হতো বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানের পর পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাইখোড়া থানার সেকেন্ড অফিসার বিরজিত দাস জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক গরুগুলোর প্রকৃত মালিক কে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।
এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বাইখোড়া এলাকার মানুষের।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*