মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব এসপিও পরিবারের মহিলারা, ১০ দফা দাবি পূরণ না হলে জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৬ আগস্ট || নিয়মিতকরণসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমা প্রেস ক্লাবে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন ‘ত্রিপুরা এসপিও পরিবারের নারী কণ্ঠ’ সংগঠনের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক এবং পরিবার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই; এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের ইন্ধনের সম্পর্ক নেই।
সংগঠনের নেত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে গোটা রাজ্যে এসপিও পরিবারের মহিলারা নিয়মিতকরণসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে আগরতলায় পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে রাজ্যের ডিজিপির হাতে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, ডিজিপি উপস্থিত না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এডিজির হাতে দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ১০ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে আন্দোলনকারীরা বিরোধী দলের ইন্ধনে আন্দোলনে নেমেছেন এবং তাঁরা পুলিশেরই লোক। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্যের এসপিও পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
তাঁদের প্রশ্ন, একজন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে কীভাবে এমন মন্তব্য করলেন? যদি সরকারের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করারও দাবি জানান তাঁরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির একাধিক নেতা ক্ষমতায় এলে এসপিওদের নিয়মিতকরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাধ্য হয়েই এসপিও পরিবারের মহিলারা আন্দোলনের পথে নেমেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন ভাষায় তাঁরা বলেন, কোনো কর্মরত এসপিওর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। তাই নিয়মিতকরণ, চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন এবং এসপিও পরিবারগুলোর সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরবেন। তবে এরপরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে এসপিও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং রেল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে এসপিও পরিবারের মহিলাদের বার্তা ছিল, “আমরা রাজনীতি করতে রাস্তায় নামিনি। আমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, সম্মান ও বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষার জন্যই এই আন্দোলন। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”
(বিঃদ্রঃ: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলো সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।)

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*