শিক্ষকতায় ফিরেও রাজনীতি ছাড়েননি রেবতী ত্রিপুরা, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট বার্তা— “বিজেপিতেই আছি”

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ আগস্ট || প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরার শিক্ষকতার পেশায় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সোমবার তা নিজেই খণ্ডন করলেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেবতী ত্রিপুরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি, বিজেপিতেই রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের সঙ্গেই কাজ করে যাবেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংবাদমাধ্যমসহ রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা পুনরায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপরই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। দলের নতুন রাজ্য ও জেলা কমিটিতে তাঁর নাম না থাকা, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক কম সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এমনও মন্তব্য উঠে আসে যে, তাঁর রাজনীতি নাকি ‘ফুলটাইম’ থেকে ‘পার্টটাইমে’ পরিণত হয়েছে।
তবে এদিন সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে রেবতী ত্রিপুরা বলেন, তিনি যে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছেন, সেটি একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়। ফলে সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো কঠোর বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রেও আইনগত কোনো বাধা নেই বলে তিনি জানান।
রেবতী ত্রিপুরা আরও বলেন, ২০১৯ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে দীর্ঘ ছুটিতে ছিলেন। বর্তমানে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকায় এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে তিনি পুনরায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পথচলা। তাঁর বাবা ও দাদুও দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন এবং বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোর কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতে দল যে দায়িত্বই দিক না কেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি সেই দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
যদিও রেবতী ত্রিপুরার এই বক্তব্যে শিক্ষকতায় প্রত্যাবর্তন নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে, তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে আগামী ভিলেজ কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষকতা ও সক্রিয় রাজনীতি—এই দুই দায়িত্ব তিনি কীভাবে সমন্বয় করবেন এবং ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়েই এখন চলছে বিস্তর জল্পনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*