গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ আগস্ট || বর্ধিত বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় খোয়াই মহকুমায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা নতুন করে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অধিকাংশ রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভ চরমে উঠেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিবার ছুটির দিনে সকাল থেকেই প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে বিভিন্ন ধরনের সারাই ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। ফলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাড়িঘর থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে এলেও পরবর্তী প্রায় দুই ঘণ্টা বিভিন্ন ধরনের গোলযোগ ও বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার সমস্যা লেগেই থাকে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ নাগরিকদের প্রশ্ন, একটানা সারাদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না রেখে কি পর্যায়ক্রমে অর্ধেক বেলা করে কাজ করা সম্ভব নয়? রবিবারের ছুটির দিনসহ অন্যান্য দিনেও কাজ ভাগ করে নিয়ে পরিষেবা সচল রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
শুধু খোয়াই নয়, বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হয়েছে। এই আবহেই বিদ্যুৎ পরিষেবার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, মুখ্যসচিব জীতেন্দ্র কুমার সিনহা এবং TSECL-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিষেবা আরও কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পাশাপাশি বৈঠকে আগরতলা স্মার্ট সিটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এবং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় সড়ক ও পূর্ত দপ্তরের (PWD) আওতাধীন সড়কগুলির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
এদিকে, খোয়াইয়ে রবিবার দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার সমস্যা কবে স্থায়ীভাবে মিটবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে সাধারণ মানুষ। বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপের সঙ্গে যদি পরিষেবার ঘাটতিও অব্যাহত থাকে, তাহলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নাগরিকদের একাংশ।
