পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ৭ ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ, শিক্ষিকা ও ক্লার্কের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১০ আগস্ট || দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ির পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে সাতজন ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা ও এক ক্লার্কের বিরুদ্ধে। ঘটনায় কয়েকজন ছাত্রের বুকে ও পেটে আঘাত লাগে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, গত শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠরত সাতজন ছাত্রকে মারধর করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কৃষ্ণা মজুমদার ও ক্লার্ক কৃষ্ণ লোধ। বিশেষ করে ক্লার্ক কৃষ্ণ লোধ ছাত্রদের লাথি মেরেছেন বলেও অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। এতে কয়েকজন ছাত্র গুরুতরভাবে আহত হয় বলে দাবি তাঁদের। ঘটনার পরপরই আহত ছাত্রদের জোলাইবাড়ি সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
অভিভাবকদের বক্তব্য, ছাত্ররা কোনো ধরনের অপরাধ করে থাকলে বিষয়টি তাঁদের জানানো উচিত ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের একজন ক্লার্ক কীভাবে ছাত্রদের শারীরিকভাবে আঘাত করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক তপন চক্রবর্তীর কাছে জানানো হলে প্রতিবাদকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের টি.সি. দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিদ্যালয়ে ছাত্রদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসতে সংকোচবোধ করবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের শিক্ষাজীবনে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও নিয়ম অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এখন দেখার বিষয়, ছাত্রদের মারধরের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*