দক্ষিণ ত্রিপুরায় স্বাধীনতা দিবসের আবহে নেশাবিরোধী শপথ, একসঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ জেলার এক লক্ষাধিক মানুষ

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১১ আগস্ট || ভারতের স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি। গত ৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। ‘স্বাধীনতাকে সম্মান, ভবিষ্যতের প্রেরণা’—এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি জেলাজুড়ে চলছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ এবং ‘নেশামুক্ত দক্ষিণ ত্রিপুরা’ অভিযান।
এই কর্মসূচিরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট জেলার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রস্তাব গ্রহণ এবং নেশাবিরোধী শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে এই শপথের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে সাব্রুমের পি.এম.শ্রী উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সভায় আয়োজিত হয় বিশেষ নেশাবিরোধী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রঞ্জন দেবনাথ সংবাদমাধ্যমকে জানান, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক মহম্মদ সাজেদ পি.-এর নির্দেশ ও উদ্যোগ অনুসারে বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মোট ৬২০ জন ছাত্রী দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলাকে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত করার লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, ছাত্রীদের এই অঙ্গীকার আগামী দিনে সমাজে নেশাবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদেরও নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রে ছাত্রীরা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শপথ গ্রহণে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তৃষা দাস জানায়, তারা সকলে মিলে অঙ্গীকার করেছে যে নিজেরা কখনও নেশার কবলে পড়বে না এবং নিজেদের চারপাশের মানুষকেও নেশার অন্ধকার থেকে দূরে রাখতে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
জেলা প্রশাসনের এই বৃহৎ উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দক্ষিণ ত্রিপুরায় নেশাবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নেশামুক্ত সমাজ গঠনের এই সম্মিলিত অঙ্গীকার আগামী দিনে দক্ষিণ ত্রিপুরাকে আরও সুস্থ, সচেতন ও নিরাপদ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*