গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ নভেম্বর || খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সিপিআই(এম)-এর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে এক ধোঁয়াশা ও রাজনৈতিক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে খোয়াইয়ের সিপিআই(এম) বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস সরাসরি পুলিশ প্রশাসন ও শাসক দলের বিরুদ্ধে বাধাদান এবং বাইক বাহিনীর তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে মনোনয়ন না দেওয়ার কথা জানান, অন্যদিকে আবার সেই বক্তব্যের কিছু পরেই নীরবে ১৩টি ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল সম্পন্ন করেন।
আজ সকালে সিপিআই(এম) বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন খোয়াই থানার পুলিশ ও শাসক দলের দিকে। তিনি দাবি করেছিলেন যে, বাইক বাহিনীর ভয়-ভীতি ও পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার কারণে তাঁদের প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারছেন না এবং পুলিশ নাকি তাঁদের বিকল্প গলিপথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। এই বলে পুরো দায় চাপানো হয়েছিল শাসক দল ও প্রশাসনের ওপর। কিন্তু এর পরেই উঠে আসে একেবারে বিপরীত এক ছবি। সমস্ত অভিযোগ এবং “মনোনয়ন জমা দেব না” এমন সুর চড়ানোর মাঝেই সুবিধাজনক সুযোগ বুঝে খোয়াই পুর পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টি আসনে চুপচাপ মনোনয়ন দাখিল করেন সিপিআই(এম) প্রার্থীরা। বাকি ২টি আসনে বিরোধী জোটের শরিক কংগ্রেসের সাথে আসন সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিপিআই(এম)-এর এই দ্বিচারিতা ও কৌশলী পদক্ষেপের পর এখন খোয়াইয়ের রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— প্রথমত, তবে কি প্রেস ব্রিফিংয়ে বিধায়কের তোলা অভিযোগ কেবলই এক রাজনৈতিক চাল বা চাপ সৃষ্টির কৌশল ছিল? নাকি বিরোধীদের নিরাপদে মনোনয়ন জমা দিতে সাহায্য করতে পুলিশ প্রশাসন ও বিরোধীদের মধ্যে কোনো গোপন বা যৌথ পরিকল্পনা ছিল? শাসক দলের ওপর দায় চাপিয়ে মিডিয়ার সামনে হট্টগোল করা এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আসনে বিরোধীদের (১৩টি সিপিআইএম + ২টিতে কংগ্রেস) মনোনয়ন দাখিল করার এই পুরো চিত্রনাট্য শেষ পর্যন্ত কার নির্দেশে বা কৌশলে বাস্তবায়িত হলো—তা নিয়ে খোয়াই জুড়ে জোর চর্চা ও প্রশ্ন থেকেই গেল।
