মানভূম দিবস পালন ‘আমরা বাঙালী’র, আন্দোলনের শহিদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০১ নভেম্বর || মানভূম আন্দোলনের শহিদ ও ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামীদের স্মরণে রবিবার ‘আমরা বাঙালী’ দলের উদ্যোগে রাজ্য কার্যালয়ের সামনে মানভূম দিবস পালন করা হয়। এদিনের কর্মসূচিতে আন্দোলনের শহিদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল, যুগ্ম ও প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অশোক কুমার দাস সহ অন্যান্য দলীয় কর্মীবৃন্দ।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল মানভূম আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাঙালিদের উপর বিভিন্ন সময়ে দমন-পীড়ন ও অত্যাচার চালানো হয়েছে। বিপ্লবী কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দিতে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজ, প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ মানভূম, সিংভূম সহ বিস্তীর্ণ বাংলাভাষী অঞ্চল বিহার ও ওড়িশার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলার সেই অঞ্চলগুলি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং অসম ও বিহারে বাঙালিদের মাতৃভাষার অধিকার সংকুচিত করার চেষ্টা শুরু হয়। বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গৌরাঙ্গ রুদ্র পালের বক্তব্য অনুযায়ী, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় অসমের বাঙালিদের পাশাপাশি মানভূমের বাঙালিরাও আন্দোলনে সামিল হন। আন্দোলন দমন করতে ধরপাকড়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ১৪৪ ধারা জারির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবুও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি থেকে সরে আসেননি।
তিনি মানভূম আন্দোলনের ঐতিহাসিক পদযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ১৯৫৬ সালের ২৩ এপ্রিল পাকবিড়রা থেকে হাজার হাজার সত্যাগ্রহী পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ৬ মে সকাল ১০টায় তাঁরা কলকাতায় পৌঁছান। সেখানেও ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়।
পরবর্তীতে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মানভূমের মোট ১১,০০২ বর্গমাইল এলাকার মধ্যে ২,৪০৭ বর্গমাইল এলাকা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়। গঠিত হয় পুরুলিয়া জেলা। বাকি অংশ বিহারের সঙ্গে থেকে পরবর্তীকালে ঝাড়খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়।
রাজ্য সচিব আরও বলেন, প্রতি বছর ১ নভেম্বর মানভূম দিবস পালন করা হয়। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় মানভূমের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন হলেও বাঙালিদের সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়নি। বরং বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিরা নানা ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এদিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানভূম আন্দোলনের শহিদ ও সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার পাশাপাশি মাতৃভাষা, ভাষার অধিকার এবং বাঙালির স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায় ‘আমরা বাঙালী’ দল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*