গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ নভেম্বর || বিএসএফ মানে শুধুমাত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, দেশ ও রাজ্যের সুরক্ষা কবচও। নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আমাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত এই জওয়ানদেরও আমাদের থেকে সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগ থাকতেই পারে, তাই বলে এভাবে আমাদের জন্য দিন-রাত অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকা জওয়ানদের এটা প্রাপ্য নয়, মত জনগণের। আজ ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি এলাকায় আন্তঃসীমান্ত চোরাকারবারী ও স্থানীয় কিছু জনতার ন্যাক্কারজনক হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কোম্পানি কমান্ডার ও জওয়ানরা। এটা সত্যিই লজ্জাজনক। সোমবার (২রা নভেম্বর) ঘটা এই হিংসাত্মক ঘটনায় বিএসএফ-এর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হন। বিএসএফের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় জওয়ানদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরও বক্তব্য তাই। এধরনের ঘটনাকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। কড়া মনোভাব নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক বলেই মত জনগণের।
সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় কর্মরত বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের একটি দল দৈনন্দিন ডিউটি ও টহলের অংশ হিসেবে আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এবং পঞ্চায়েত কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। সেই সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি হেফজুর রহমান (যিনি চোরাচালান বা সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত বলে অভিযোগ) ঝোপঝাড় পরিষ্কারের আড়ালে সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করার চেষ্টা করলে বিএসএফ জওয়ানরা তাকে বাধা দেন। এই বৈধ বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কুখ্যাত চোরাকারবারী ও তাদের প্ররোচনায় কিছু লোক একত্র হয়ে বকসনগর-রহিমপুর সড়ক অবরুদ্ধ করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ৪৯ বিএন বিএসএফ-এর সহকারী কমান্ড্যান্ট তথা কোম্পানি কমান্ডার রোহিত কুমার এবং অতিরিক্ত জওয়ানরা। কিন্তু উন্মত্ত জনতা ও চোরাকারবারীদের দল অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং বিএসএফের সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে।
এই বর্বরোচিত হামলায় বিএসএফের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার, গাড়িচালক সুনীল কুমার এবং জওয়ান মনজিতসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আঘাত পান। জখম জওয়ানদের প্রথমে স্থানীয় বকসনগর প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ (টিএমসি)-এ স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে কলমচৌড়া থানার পুলিশ এবং বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অবিলম্বে বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীদের আস্ফালন ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের এই ঘটনায় বিএসএফ ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অমান্যকারী এবং জওয়ানদের ওপর হামলাকারী চক্রটিকে কঠোরহস্তে দমনের বার্তা দিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
