পুরনো গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সেজে উঠছে পিলাকের মা মহেশ্বরী কালীমন্দির

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৭ নভেম্বর || আধুনিকতার ছোঁয়ায় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্য। সেই হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ থিমের মাধ্যমে সেজে উঠছে দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ীস্থিত পিলাক পার্কিং জোনের মা মহেশ্বরী কালীমন্দির। এবছর শ্যামা মায়ের আরাধনাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে থাকছে বাংলার প্রাচীন গ্রামীণ জীবনযাত্রার নানা চিত্র।
প্রতি বছরের মতো এবছরও মহা আড়ম্বরে শ্যামা মায়ের পূজার আয়োজন করেছে মা মহেশ্বরী কালীমন্দির পূজা কমিটি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ত্রিপুরার যে কয়েকটি কালীপূজা ইতিমধ্যেই সরকারি স্বীকৃতি লাভ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম এই পিলাক পার্কিং জোনের মা মহেশ্বরী কালীমন্দিরের পূজা। এবছর পূজার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে।
রবিবার স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার হাত ধরে এই পূজা ও মেলার শুভ সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই মেলার আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন শান্তিরবাজারের মহকুমাশাসক। মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা মন্দির প্রাঙ্গণে তাঁদের পসরা সাজিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। পাশাপাশি, মঙ্গলবার প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন পূজায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য অন্নভোগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পূজার এবছরের বিশেষ থিম প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা তমাল বৈদ্য জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে জেন জি প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের পূজায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
থিমের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘর, কুয়ো থেকে জল তুলে পান করা, গরু দিয়ে হাল চাষ এবং ধান উৎপাদনের মতো গ্রামবাংলার চিরাচরিত দৃশ্য। একসময়ের গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যগুলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে এই পূজা কমিটি। তমাল বৈদ্য জানান, রক্তদানের মতো মানবিক কর্মসূচিতে কমিটির সদস্যরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের প্রয়োজনে রক্তদান থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো—বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে এবছর পিলাক পার্কিং জোনের মা মহেশ্বরী কালীমন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক বিশেষ মেলবন্ধন ঘটতে চলেছে। শ্যামা মায়ের আরাধনা, বর্ণাঢ্য মেলা এবং হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার স্মৃতি উপভোগ করতে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে পূজায় অংশগ্রহণের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*