গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ নভেম্বর || ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) এলাকার জনজাতিদের জমির অধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নে এক বড়সড় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। দীর্ঘ আলোচনার পর টিটিএএডিসি এলাকার ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও অধিকার খতিয়ে দেখতে অবশেষে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জয়েন্ট কমিটি’ গঠন করেছে ত্রিপুরা সরকারের রাজস্ব দপ্তর। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিপ্রামথা পার্টির প্রধান প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মা।
গত ৬ই নভেম্বর রাজ্য সরকারের রাজস্ব দপ্তরের যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে (No.F. 4(17)/RCC/2026/75-85) জানানো হয়েছে, টিটিএএডিসি এলাকার ভূমি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার জন্য ৮ সদস্যের এই যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি হলো আহ্বায়ক, সচিব, উপজাতি কল্যাণ দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার এবং সদস্যবৃন্দরা হলেন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO), টিটিএএডিসি, সচিব, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার, সচিব, রাজস্ব দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার, অতিরিক্ত সচিব, রাজস্ব দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার, অধিকর্তা, ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সেটেলমেন্ট, ত্রিপুরা সরকার, প্রিন্সিপাল অফিসার, ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সেটেলমেন্ট, এবং টিটিএএডিসি, প্রিন্সিপাল অফিসার (আইন), টিটিএএডিসি।
এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিপ্রামথা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মা সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তা দিয়ে জানান, “জমির অধিকার সংক্রান্ত আমাদের এই দাবি কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের নিজস্ব পরিচয় রক্ষা, ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা এবং আগামী প্রজন্মের অধিকার বজায় রাখার লড়াই।” তিনি আরও বলেন যে, পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে টিটিএএডিসির সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই যৌথ কমিটি গঠন এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। জমির অধিকারের পাশাপাশি টিটিএএডিসি এলাকায় মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারেও এক বিরাট ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন প্রদ্যোৎ মানিক্য। তিনি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিগত দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ফলস্বরূপ এডিসি এলাকা জুড়ে উন্নতমানের ‘রেসিডেন্সিয়াল স্কুল’ (আবাসিক বিদ্যালয়) স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। শিশু ও তরুণ প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিকাঠামো এবং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি ব্যক্ত করেন। রাজ্য সরকার ও টিটিএএডিসি প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কমিটি জনজাতি এলাকার দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করবে বলে আশা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক ও সচেতন মহল।
