শতবর্ষে পদার্পণ করলেন ভারতরত্ন লালকৃষ্ণ আডবাণী, শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

জাতীয় ডেস্ক, নয়াদিল্লি, ০৭ নভেম্বর || ভারতীয় রাজনীতির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত লালকৃষ্ণ আডবাণীজির জীবনের শততম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৮ নভেম্বর আডবাণীজির জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দেশ গঠনে অবদানের কথা তুলে ধরে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, আডবাণীজির জীবন আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। দেশভাগের পর সিন্ধু থেকে ভারতে এসে নতুন করে জীবন শুরু করা থেকে শুরু করে জনসংঘকে শক্তিশালী করা এবং পরবর্তীতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আদর্শগত স্পষ্টতা, বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা প্রজন্মের পর প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
১৯৭০ সালে সংসদীয় জীবনের সূচনা করেন আডবাণীজি। সাংসদ, বিরোধী দলনেতা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
আডবাণীজির রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত ঐতিহাসিক রথযাত্রা। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই যাত্রার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত তাঁরও যুক্ত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। রাম মন্দির আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও দেশবাসীর আশীর্বাদে অযোধ্যায় প্রভু শ্রী রামের মন্দির নির্মাণ বাস্তব রূপ পেয়েছে।
আডবাণীজির সরলতা, সততা, অধ্যয়নশীলতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ এবং সিন্ধি ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্ত্রী কমলা আডবাণীর অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দেশবাসীর পক্ষ থেকে আডবাণীজিকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। জীবনের শততম বছরে পদার্পণ করা এই প্রবীণ নেতার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে দেশসেবায় অনুপ্রাণিত করে যাবে।
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের শতবর্ষে পদার্পণকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছার আবহ তৈরি হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*