৩০ বছরের গাঁজা ব্যবসায় হাত প্রশাসনের, পুলিশি অভিযানে ২৯৪ কেজি গাঁজা আটক

khwগোপাল সিং, খোয়াই, ০২ জুন ৷৷ খোয়াই জেলা পুলিশের ডি.আই.বি বিভাগের ডিএসপি বিনয় কিশোর দেববর্মা ও খোয়াই থানার গাঁজা বিরোধী যৌথ অভিযানে সাফল্য। খোয়াই থানাধীন রতনপুর সাধুপাড়া টিলাবাড়িতে এক ব্যাক্তির বাড়ী থেকে উদ্ধার হল ২৯৪ কেজি গাঁজা। পুলিশি অভিযানের আঁচ পেয়ে গা ঢাকা দেয় অজিত দেববর্মা নামে ঐ গাঁজা ব্যবসায়ী। অথচ খোয়াই জেলায় গত ৩০ বছর যাবতই গাঁজা চাষ একটি প্রধান কালো টাকার ব্যবসা। এই গাঁজা চাষ থেকে দীর্ঘদিন যাবত পুলিশ, আবগারী দপ্তর সহ স্থানীয় নেতৃত্বদের রমরমা ব্যবসা হতো। খোয়াই থেকে বহি:রাজ্য সহ বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে গাঁজা। এক গাঁজা ব্যবসায়ী প্রকান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন ব্যবসার অর্ধেক টাকা দিতে হয় পুলিশ, আবগারী দপ্তর সহ স্থানীয় নেতৃত্বদের। যার ফলে এতদিন শোনা যায়নি গাঁজা অভিযান। সরকারের পালাবদলের সাথে সাথেই একটি শিবির পুলিশের উপর মহলে খবর দিয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার এই গাঁজা ধরিয়ে দিচ্ছে। খোয়াইয়ের জনগণের অভিমত ২৫/৩০ বছর শোনা যায়নি এত পরিমানে গাঁজা চাষ হচ্ছে খোয়াই জেলায়। অথচ খোয়াই জেলা পুলিশের ডি.আই.বি বিভাগের ডিএসপি বিনয় কিশোর দেববর্মা ও খোয়াই থানার যৌথ অভিযান চালিয়ে খোয়াই থানাধীন রতনপুর সাধুপাড়া টিলাবাড়ি থেকে ২৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। মিডিয়ার সাথে সাক্ষাতে খোয়াই থানার ওসি জানান, মুলত খোয়াই জেলা পুলিশের ডি.আই.বি বিভাগের ডিএসপি বিনয় কিশোর দেববর্মা’র গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই খোয়াই থানার ওসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী রতনপুরের সাধুটিলায় অজিত দেববর্মার বাড়ীতে হানা দেয়। দুটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ১৯টি বস্তায় মোট ২৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। যার বাজার মুল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লক্ষাধিক টাকা হবে বলে প্রাথমিক অনুমান। এদিকে মিডিয়ার সাথে সাক্ষাতে খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী জানান, ডিএসপি বিনয় কিশোর দেববর্মার তথ্যের ভিত্তিতেই খোয়াই জেলা পুলিশের এই সাফল্য। তবে গাঁজা ব্যবসায়ী ও পাচারকারি অজিত দেববর্মাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। শনিবার ভোরে এই অভিযান চালানো হলেও পুলিশি হানার আঁচ পেয়ে অজিত দেববর্মা সহ অবৈধ নেশা কারবারীরা গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়। খুব সহসাই তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। এদিকে উদ্ধার করা গাঁজা সহ ক্যামেরা বন্দি হতে এদিন খোয়াই থানা বাবুদের উৎসুক হুড়োহুড়ি ছিল দেখার মতো। কিন্তু খোয়াই জেলাতে শুধু গাঁজা চাষই নয় শহরাঞ্চলেই জান্ডিমুন্ডা, তীর, হেন্ডিং এর মতো জুয়ার রমরমা যেমন রয়েছে তেমনি কোরাক্স, টেবলেট, দেশি মদের রমরমা ব্যবসা চলছে তার কোন কিনারা করতে পারছেন না খোয়াই থানা বাবুরা। কারন বিরাট একটি ট্যাক্স আদায় হয় এর থেকে। তাই জেলা পুলিশ প্রশাসন লোক দেখানো ক্ষুদ্র অভিযান করে খোয়াইবাসীর কাঁটা ঘায়ে মলম লাগিয়েই আনন্দে মাতোয়ারা। অথচ পুলিশ প্রশাসন ভুলে যাচ্ছে জনগণ কিন্তু সবজান্তা। সরকারের পরিবর্তন হলেও পুলিশ প্রশাসনের যে কোন পরিবর্তন এখনও হয়নি তাও লক্ষ্য করছেন জনগণ। সমাজ-সংস্কৃতি এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে যদি পুলিশ প্রশাসন যদি যোগ্য ভূমিকা এখনও না নেয় তবে একদিন জনগণই এর বিচার করা শুরু করতে পারে। সেদিন পুলিশ প্রশাসনই থাকবে এর জন্য দায়ী, অভিমত জনগণের।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*