বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার দাবিতে রাতের অন্ধকারে জাতীয় সড়ক অবরোধে ক্ষুব্দ উপজাতিরা

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৯ জুলাই || আঠারোমুড়া পাহাড়ের পাদদেশের বিভিন্ন এলাকায় একবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল হতে লাগে সপ্তাহ খানেক। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার দাবিতে রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইট, কেরোসিনের কূপি বাতি জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধে বসল ক্ষুব্দ উপজাতি রিয়াং সম্প্রদায়ের লোকেরা। ঘটনা তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের আঠারোমুড়া পাহাড়ের পিজিপি কলোনি এলাকায় বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে নটা নাগাদ। পরে প্রশাসনিক তরফে আশ্বাস পেলে পথ অবরোধ মুক্ত করে অবরোধকারীরা।
জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে জাতীয় সড়কের সংস্কারের কাজ চলার ফলে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলি একদিক থেকে অন্যদিকে সরানোর কাজ চলছে। তার আঠারোমুড়া পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় তথা ৪৫ মাইল, ৪৭ এবং ৪৮ মাইল এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সঠিক ভাবে পাচ্ছে না ওই এলাকার বসবাসকারী গিরিবাসীরা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তো রয়েছেই। এই এলাকাগুলিতে একদিন ভুলক্রমে বিদ্যুৎ ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ আসতে লেগেছে কয়েকদিন। বর্তমানে ওই এলাকায় বিগত কয়েকদিন যাবৎ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে রয়েছে। বারবার এলাকাবাসীর তরফ থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়ে আসলেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার জন্য তেমন কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীরা বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে নটা নাগাদ আঠারোমুড়া পাহাড়ের ৪৭ মাইল এলাকায় বসবাসকারী পিজিপি কলোনি রিয়াং সম্প্রদায়ের লোকেরা জাতীয় সড়ক অবরোধে সামিল হয়। এদিন কারোর হাতে ব্যাটারি চালিত টর্চ লাইট আবার কারোর হাতে কেরোসিনের কুপি বাতি। ঘন্টার পর ঘন্টা চলে পথ অবরোধ। অবরোধকারীদের দাবি অতিসত্বর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এদিকে এই পথ অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে যায়। খবর পেয়ে মুঙ্গিয়াকামি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অবরোধকারীদের অবরোধ তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরে অবশ্যই আশ্বাস পেয়ে পথ অবরোধ মুক্ত করে অবরোধকারীরা। এদিকে অবরোধ কারীদের অভিমত আগামী কালকের মধ্যে যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল না হয় ফের পথ অবরোধে সামিল হবে তারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*