মোমবাতির আলোয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিশার দিশারী কল্যাণপুরের কাজল

রাজীব ঘোষ, কল্যানপুর, ২৬ অক্টোবর || অন্ধকার দূর করার কাজে মোমবাতি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, আর এই মোমবাতিকে ব্যবহার করেই গ্রামীণ অর্থনীতির সামনের অন্ধকারকে ঘুচিয়ে আলোর দিশা দেখাতে মরিয়া উদ্যোগ কল্যাণপুর আর ডি ব্লকের অন্তর্গত পূর্ব কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তোতাবাড়ি এলাকার শিক্ষিত যুবক কাজল দাসের।
গতানুগতিক শিক্ষায় ইতি টেনে আর দশটা সাধারণ ঘরের ছেলের মত কাজল‌ও হন্যে হয়ে ঘুরছিল একটা সরকারি চাকুরীর জন্য, কিন্তু কাজলের কপালে জুটল না সরকারী চাকুরী। কিন্তু তাই বলে বেকারত্বের তকমা নিয়ে হতাশাকে পুঁজি করে বসে থাকার বদলে নিজের অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তির উপর ভরসা রেখে নতুন যাত্রা শুরু করল কাজল, আর এই যাত্রাপথে পাথেয় হিসেবে বেছে নিল মোমবাতি।
আজ থেকে আট বছর আগে দাস এন্টারপ্রাইজ নাম দিয়ে লোটাস ব্র্যান্ডের মোমবাতি তৈরী করা শুরু করে কাজল। আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগকে সাফল্যমন্ডিত করতে এলাকার অনুন্য ২০ টি পরিবারের পুরুষ মহিলা সম্মিলিত ভাবে শ্রমদান করে চলেছে।
আমাদের সাথে আলাপচারিতায় কাজল খোলামেলা জানাল যে এখনো পর্যন্ত যা করেছে বা যতটুকু করেছে সবটাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে। খুশি কাজল। আট বছর ধরে এই দাস এন্টারপ্রাইজকে নিজের হাতে বিকশিত করতে পেরে যতটুকু না খুশি তার চেয়ে বেশী খুশী কারণ সে এলাকার ২০টি পরিবারকে ভরসা দিতে পারছে।
শিক্ষিত হয়ে বেকারত্বের ঘানি না টেনে নিজে স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরকে নিযূক্তি দানের মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় একটি দৃঢ় বার্তা দিতে পারছে কল্যাণপুরের এই উদ্যমী যুবক।
বর্তমানে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর রমরমার কারণে হয়তো মোমবাতির চাহিদাটা মোটামুটি কম, কিন্তু এরপরেও থেমে থাকতে নারাজ কাজল। বললেন , বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রত্যেকটা মহকুমায় দাস এন্টারপ্রাইজের তৈরি হওয়া লোটাস ব্র্যান্ডের মোমবাতির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। আগামী দিনে সরকার ও প্রশাসনের সঠিক সাহায্য সহযোগিতায় এই নিজ উদ্যোগে তৈরি হওয়া দাস এন্টারপ্রাইজকে বৃহৎ শিল্পের আকার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর তোতাবাড়ির কাজল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*