সামাজিক অবক্ষয়ের নিদর্শন, রাবার বাগান থেকে সদ্যোজাত শিশু কন্যা উদ্ধার

আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২৭ ডিসেম্বর || জন্মই ‘আজন্ম পাপ’। ঘৃণা, লোকলজ্জা, সমাজের চোখরাঙানি ও তিরস্কারের কষ্টগাথা মায়ের হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। জন্মের পরই মা-বাবার কোলের বদলে ডাস্টবিনে, ড্রেনে, ফুটপাত ও হাসপাতালের আঙিনায় অনেক নবজাতকের ঠাঁই হচ্ছে। আবার ডাস্টবিন, জঙ্গলে এসব নবজাতককে কুকুর, পিঁপড়া আক্রমণ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের দেশের সামাজিক রীতি-নীতি আর না মানার কারণে এসব ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ এই অনাগত সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার কত না রঙিন স্বপ্ন থাকে। মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এলে কী নামে তাকে ডাকা হবে এ নিয়ে ভাবনার অন্ত থাকে না। এই ধরণীতে নতুন অতিথি আসার আগেই অনেক বাবা-মা নতুন খেলনা ও পোশাক কিনে তাদের ঘর ভরে রাখেন। এমন ভালোবাসা চিরন্তন। বাঙালি জননীর হৃদয়-মনজুড়ে তার সন্তান। তাকে ‘দুধে-ভাতে’ বড় করার স্বপ্ন। আবার এই স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিপরীত চিত্রও অন্ধকারের কালো নিকষে ভরা। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার ছিটেফোঁটার চিহ্নও নাই। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রায়ই আগরতলা রাজধানীসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে পরিচয়হীন নবজাতক। আর প্রতিনিয়তই এধরনের ঘটনা রাজধানীসহ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে।জানা যায়, সদ্যজাত এক শিশুকে রাবার বাগানে জন্ম দিয়ে রেখে চলে যায় তার মা। ঘটনা সোমবার মেলাঘর থানাদিন বগারবাসা ৫ নং ওয়ার্ডের চিনময় দেবনাথের রাবার বাগানে। জানা যায়, সোমবার সকালে সদ্যজাত এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে ফেলে যায় তার মা। সকালে রাবার বাগানে কাজ করতে এসে শ্রমিকরা শিশুটির কান্না শুনতে পান। তখন শ্রমিকরা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে এলাকার জনগণ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। এই দিকে সকাল বেলায় এই কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু সবচাইতে আশ্চর্য জনক বিষয় হলো শিশুটিকে একটুকরো কাপড় দেওয়ার মত কেউ ছিলনা। আমাদের এই ভদ্র সমাজের লোকেরা এই শিশুটিকে দেখে দেখে সবাই চলে আসে। জানা যায়, পরবর্তী সময়ে বগারবাসা এলাকার এক স্টাফ নার্স খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে এবং কিছু গরম কাপড় দিয়ে মেলাঘর থানার গাড়িতে উঠে পড়েন, কিছুটা পথ যেতেই জুমের ডেফা পি এস সি গাড়ি আসলে পরে তুলে দেওয়া হয়। এই গাড়ি দিয়ে মেলাঘর হাসপাতালে নেওয়া হয় নবজাতক শিশুটিকে। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তারবাবুরা অক্লান্ত চেষ্টা করেও এই নব্যজাতক শিশুকে বাঁচাতে পারেনি। তবে এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*