পোষমানা হাতি কিশোরকে নিয়ে রেডিও কলারিং করা হচ্ছিল, পালায়নি কিশোর – দাবী বনদপ্তরের আধিকারিকের

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৫ ফেব্রুয়ারী || হাতির ক্যাম্প থেকে কিশোর নামের একটি হাতি পালিয়ে যাওয়া নিয়ে রীতিমত চঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। যদিও তেলিয়ামুড়া বন বিভাগের দাবি হাতি পালানোর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যে। এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার আঠারোমুড়ার জঙ্গলে কিশোর নামের হাতিটিকে নিয়ে বহিঃরাজ্যের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বন আধিকারিকরা রেডিও কলারিং করছিল। যাতে করে বন্য হাতি গুলির সন্ধান পাওয়া যায়। কারণ বন্য হাতির গলায় জিপিএস লাগানো হবে। সেই জন্য পোষমানা কিশোর নামের হাতিটিকে নিয়ে অভিযান করছিল। এমন সময়ই হয়ত মাহুতের সঙ্গে রেগে কিশোর অন্য দিকে চলে যায়। কারণ ক্যাম্পে হাতি গুলির পর্যাপ্ত পরিমাণের খাবার জুটছিলো না। এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সেই জন্যই খাবারের খোঁজে কিশোর অন্য দিকে চলে যায়। যদিও রেডিও কলারিং মাধ্যমে কিশোরের সন্ধান পেয়ে যায়। আর এটা স্বীকার করতে নারাজ বন বিভাগ। বর্তমানে কিশোর ক্যাম্পেই রয়েছে বলে জানান তেলিয়ামুড়া বন বিভাগের আধিকারিকরা। তাঁদের কথায়, বন্য হাতির আক্রমণ রুখতে বিগত কিছুদিন ধরেই গভীর জঙ্গলে পোষমানা হাতি দিয়ে রেডিও কলারিং করা হচ্ছিল। ক্যাম্পে মোট ছয়টি হাতি রয়েছে। প্রতিদিনই একটি করে হাতি নিয়ে রেডিও কলারিং করা হয়। বহিঃরাজ্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রশিক্ষন প্রাপ্ত দল এই অভিযানে রয়েছে। প্রথমে পোষমানা হাতি দিয়ে রেডিও কলারিং করে জঙ্গলে ছাড়া হয়। হাতির প্রায় দুইশ মিটার দূরে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত দলটি থাকে। যদি বন্য হাতির দেখা মেলে তৎক্ষণাৎ গুলি করে বেহুস করা হবে এবং সেই বন্য হাতির গলায় জিপিএস লাগিয়ে দেওয়া হবে। তখন সেই বন্য হাতির গতিবিধি সহজ ভাবে সকলেই পেয়ে যাবে। মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে জানা যাবে বন্য হাতিটি কোথায় অবস্থান করছে। তাতে বন্য হাতির আক্রমণ কিছুটা হলেও রুখা সম্ভব হবে বলে দাবি বন দফতরের। আর সেই কারণেই কিশোরকে দিয়ে রেডিও কলারিং করানো হচ্ছিলো। এমন সময়ই বিপত্তি ঘটে যায়। কিন্তু বন দফতরের পালানোর ঘটনাটি স্বীকার করতে নারাজ। তবে বন দফতরের নতুন অবলম্বন কতটুকু কাজে আসে সেটা সময়ই বলবে।
এদিকে, হাতি ক্যাম্পের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বিশাল অর্থের আদ্যশ্রাদ্ধ করে ক্যাম্প তৈরী করা হয়েছিল। এরপর থেকেই আর্থিক ঘোটালার খবর উঠে আসছিলো। অভিযোগ, দফতর থেকে হাতির নামে বিশাল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সেই অর্থ ঘোর পথে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে হাতি গুলি ক্যাম্পে খাবার সহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বলে অভিযোগ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*