সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০২ মে || সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে পাকাবাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়েছে সরকারি ঘর বা আবাস যোজনার ঘরও। তবু্ও প্রাচীন কাল থেকে চিরাচরিত ঘরের স্মৃতি ধরে রেখেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গিরিবাসীরা। পাহাড়ের উচু ভুমিতে ছন বাশের তৈরী ঘর এক মনোরম দৃশ্য, মন ছুয়ে যায়। আজও সেই গিরিবাসীরা চিরাচরিত টং ঘরেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
তেলিয়ামুড়া মহকুমা মুঙ্গীয়াকামি ব্লকের অধীন কাকড়া ছড়া এডিসি ভিলেজ এমন দৃশ্য দেখা যায়৷ পেশায় জঙ্গলের লাকড়ি বিক্রি কিংবা জুম চাষী।ছন বাঁশের ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তবে ছন বাঁশের ঘরে বসবাসকারীরা বসবাস করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে জানান, ছন বাঁশের ঘরে বসবাস করতে খুবই আরাম দায়ক। তিব্র গরমে শহরবাসী যেখানে নাজেহাল সেই সময়ে পাহাড়ের উচু টিলা ভুমিতে প্রকৃতির মাঝে ঠান্ডা হাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আরামেই বসবাস করে তারা। তবে ভারী বৃষ্টি এবং তুফানে ঘর ভাঙ্গার ঘটনা রয়েছে অনেক। কোন সময় তুফানে বাঁশ বেত ছন দিয়ে তৈরি ঘর ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ছন বাঁশের ঘরে যেমন আরামদায় তেমনই বিপদ রয়েছে বর্ষাকালে। তবে বলা প্রয়োজন ভূমিকম্প এবং গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিপদ কিছু তা হলেও কম থাকে বলে জানা গেছে। বহু প্রাচীনকাল থেকে ছন বাঁশের ঘরে বসবাস করে আসছে তেলিয়ামুড়া মহকুমার অধীন কাকরাছড়া এডিসি ভিলেজের হাজরা পাড়ার বাসিন্দারা। ওই এলাকার বেশিরভাগ বসবাসকারী জনজাতি গিরিবাসীরা জঙ্গল থেকে ছন বাঁশ সংগ্রহ করে এই ঘর নির্মাণ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে জঙ্গলে ছন আগের মতো পাওয়া দুঃসাধ্য। জঙ্গলের এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ছন সংগ্রহ করতে হচ্ছে বর্তমানে। একটা সময় দেখা যেত শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলি ছন বাঁশের ঘরের উপর নির্ভর করে থাকতো। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যার কাছে ঘর নির্মাণ সামগ্রীর কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ছনের ঘর। তবে হাজরা বাড়ি এলাকায় অত্যাধুনিক যুগে ছনের ঘর লক্ষ করা যায়। এখন অবশ্য গিরিবাসীদের এই ছন বাশের তৈরি টং ঘর শহরের বিভিন্ন রিসর্টেও দেখতে পাওয়া যায়। যা রিসোর্টের সৌন্দর্য্য বর্ধন করে। শহরের মানুষ অবসর বিনোদনে সেখানে গিয়ে এই টং ঘরে সময় কাটিয়ে আসেন। তবে প্রকৃতির মাঝে গিরিবাসীদের তৈরী করা সেই সব ঘরের চিত্রই অন্য ধরনের।
