আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মে || ত্রিপুরায় বিভিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবায় ধারাবাহিকভাবে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই ঘটনাগুলোর পেছনে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়। বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাশকতামূলক পরিকল্পনা। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি একথা বলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, বিদ্যুৎ পরিষেবা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাহত করে রাজ্যবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটানোর এই প্রবণতাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার গভীর রাতে আগরতলা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আমচকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আগরতলা শহরের মোট ২১টি ট্রান্সফর্মারে ইচ্ছাকৃতভাবে নাশকতা করা হয়েছে। এই এলাকাগুলো হলো ধলেশ্বর রোড নং ৮, চন্দ্রপুর দাসপাড়া, ধলেশ্বর বাঁশঝাড়, চন্দ্রপুর রায় বাড়ি-১, চন্দ্রপুর রায় বাড়ি-২, ধলেশ্বর রোড নং ৯, জয়গুরু অটোস্ট্যান্ড, জয়গুরু অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, আশ্রম চৌমুহনী, শিবনগর পিএন দেব রোড, পালকি বিয়ে বাড়ি, জামতলা-১, জামতলা-২, চন্দ্রপুর রেডিয়ান্ট হাউসিং, ধলেশ্বর রোড নং ৭/১৪, ব্লু লুটাস ক্লাব, অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি শিবনগর, কামারপুকুর পাড়, ডক্টর সুখেন্দু ভট্টাচার্যের বাড়ি এলাকা, ধলেশ্বর দেবেন্দ্র দেবনাথ রোড এবং শিবনগর মডার্ন ক্লাব।
তিনি বলেন, কোথাও ট্রান্সফর্মারের গ্যাং ফেলে দেওয়া হয়েছে, কোথাও বা কাটআউট খুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইনের ওপর ভারী বস্তু ফেলে শর্ট সার্কিট ঘটানোর চেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে নিগমের প্রকৌশলী ও কর্মীরা।
জানা যায়, নিগম ইতিমধ্যেই পূর্ব আগরতলা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ ব্যক্তিগভাবে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তদন্তে আইটি দপ্তরের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বর্ষাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আগাম প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার রাজধানীর প্রজ্ঞা ভবনে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের আধিকারিকদের নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হয় রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। আগামী দুই মাস নিগমের সমস্ত কর্মীদের ছুটি বন্ধ রেখে সর্বাত্মকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সাজিয়ে তোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বিগত দুর্গোৎসব এবং বন্যা কালীন সময়ের মতো এবারও আমরা বর্ষায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হবো।’
