অরুন্ধতী নগর বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী, ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় মুগ্ধ দর্শকরা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মে || বৃহস্পতিবার রাজধানীর অরুন্ধতী নগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে একদিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মডেল এবং প্রকল্প উপস্থাপন করে। এই প্রদর্শনীতে পরিবেশ, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সচেতনতা, রোবোটিক্স, জৈব প্রযুক্তি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ক নানা মডেল ছিল।
ছাত্রছাত্রীদের তৈরি মডেলগুলোতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। প্রত্যেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দর্শকদের সামনে তাদের প্রকল্প ব্যাখ্যা করে। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য, যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানের কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনেক ছাত্র এমন কিছু উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে যা ভবিষ্যতের সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এদিন প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ৩৯ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর আলক রায়। তিনি প্রতিটি স্টলে যান, শিক্ষার্থীদের কাজ ঘুরে দেখেন এবং তাদের উৎসাহ দেন।
এদিন তিনি বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তোলে এবং তাদের চিন্তাভাবনা বাস্তব রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এরা আগামী দিনের বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও সমাজের পথপ্রদর্শক।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকবৃন্দ জানান, এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি করা, এবং কীভাবে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে ভাবনার সৃষ্টি করা।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন এবং সন্তানের সৃজনশীল কাজ দেখে গর্বিত অনুভব করেন। প্রদর্শনী শেষে দর্শনার্থীদের মধ্যে থেকে অনেকে বলেন, এমন মানসম্পন্ন ও উৎসাহব্যঞ্জক প্রদর্শনী আরও বেশি হওয়া উচিত।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ই মে, অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। সেরা প্রকল্প, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হবে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে অতিথিদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজকের বিজ্ঞান প্রদর্শনীটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল এক বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা অভিজ্ঞতা, যা তাদের আত্মবিশ্বাস, দলবদ্ধ কাজ ও বৈজ্ঞানিক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*