পুলিশের জালে ধরা ৬ বাংলাদেশী নাগরিক, আটক ১ জন ত্রিপুরার নিকটাত্মীয় যুবক, সীমান্তে বিএসএফ’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ অক্টোবর || ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে বিএসএফ। সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ৬ বাংলাদেশী নাগরিক খোয়াই শহর পর্যন্ত ঢুকে পড়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। খোয়াইয়ের ব্যস্ততম রাধানগর স্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় খোয়াই থানা ও সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে এই ৭ জন বাংলাদেশী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা হলেন— অমল চন্দ্র দাস (বয়স-৩৫, পিতা মৃত সুবোধ চন্দ্র দাস, বাড়ি: শ্রীরামপুর, থানা: সোমারঘাট, বাংলাদেশ), প্রভাঞ্ছনা দে (বয়স-২৮, স্বামী অমল চন্দ্র দাস, একই এলাকার বাসিন্দা), সুবর্ণা রাণী দাস (বয়স-১১, কন্যা অমল চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ), দিয়া রাণী দাস (বয়স-৭, কন্যা অমল চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ), রবিন দাস (বয়স-৪, পুত্র অমল চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ), পিন্টু দাস (বয়স-২৬, পিতা অতীন্দ্র দাস, বাসিন্দা কুমারঘাট, থানা কুমারঘাট, ত্রিপুরা) এবং হাফিজুল মকবুল শেখ (বয়স-৫৪, পিতা মৃত মকবুল শেখ, বাড়ি: কুলাইপাট লাহাটি, থানা: তেরোকাটা, জেলা খুলনা, বাংলাদেশ)।
পুলিশ জানায়, ধৃতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের এবং তাদের সঙ্গে থাকা পিন্টু দাস নামে এক ত্রিপুরাবাসী আত্মীয়ই অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করেছিল। সকলকে রিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, বিএসএফের গাফিলতি এবং “ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সীমান্তে ফাঁকফোকর” থাকায় এই অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এমন অনুপ্রবেশ প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে খোয়াই থানার দ্রুত পদক্ষেপে বড় অনুপ্রবেশচক্র ভেস্তে গেছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, “যদি পুলিশ সময়মতো অভিযান না চালাত, এরা হয়তো রাজ্যের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ত।”
খোয়াইবাসী পুলিশের উদ্যোগের প্রশংসা করলেও বিএসএফের দায়িত্বহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নাগরিক মহলের প্রশ্ন— “যদি সীমান্ত পাহারায় বিএসএফ এতটাই সক্রিয় থাকে, তবে সম্প্রতি পরিবারসহ ৭ জন বাংলাদেশী কীভাবে খোয়াই সীমান্ত দিয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রবেশ করল?”

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*