গোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ নভেম্বর || খোয়াই শহরের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল তীর-জুয়ার অবৈধ কারবার। স্থানীয় ছোট চায়ের দোকানকে ঢাল করে প্রতিদিন স্কুল এলাকার মধ্যেই এই জুয়ার চক্র চালিয়ে যাচ্ছিল বলে গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে শনিবার সকালে বিশেষ অভিযান চালায় খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ি।
ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত এক যুবককে আটক করা হয়। ধৃত যুবকের নাম সজল তাঁতী, পিতা প্রয়াত রতন তাঁতী, বাসিন্দা অফিসটিলা এনপিসি পাড়া। অভিযানে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি মোবাইল ফোন এবং সাড়ে তিন হাজার টাকা, যা তীর-জুয়ার লেনদেনের সূত্র বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। যদিও অল্প বয়সের যুবক ধরা পড়েছে, কিন্তু রাঘববোয়ালরা শহরের উপর প্রকাশ্যে তীর-জুয়ার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের ঠিক পাশেই এই জুয়ার চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল, এবং প্রতিদিন বহু যুবক এখানে জড়ো হয়ে জুয়ার টানে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদিন সরাসরি অভিযান চালায় পুলিশ।
ধৃত সজলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। ওই মোবাইলে তীর-জুয়ার সংখ্যা লেনদেন, যোগাযোগকারীর নাম এবং বিভিন্ন দিনের লেনদেনের হিসেব মিলেছে, যা ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিযানের পর ওসি রঞ্জিত সরকার বলেন, “তীর-জুয়া শুধু আইনবিরুদ্ধই নয়, এটি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের লক্ষ্য শুধু ধরপাকড় নয়, সচেতন করা। সজল বা তার মতো আর কোনো যুবক যাতে এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে না পড়ে, তারা যাতে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে আসতে পারে—সেই দিকেও আমরা গুরুত্ব দেব।”
তিনি আরও জানান, স্কুল এলাকার মতো সংবেদনশীল জায়গায় জুয়ার কারবার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দিনে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।
