আগুন নেভানোর পাশাপাশি মানবিক দান—শান্তিরবাজারে দমকল বাহিনীর রক্তদান শিবির

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৯ ডিসেম্বর || রক্তদান যে এক মহৎ মানবিক দান—তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দমকল বাহিনী। গোমতী ও দক্ষিণ জেলা ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার শান্তিরবাজার ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির।
নিজেদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের প্রয়োজনে এগিয়ে আসার মানসিকতা থেকেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার, অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রক্তের ঘাটতি মেটাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা।
আজকের এই রক্তদান শিবিরের শুভ উদ্বোধন হয় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে। উদ্বোধন করেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের ডিরেক্টর উত্তম মণ্ডল, শান্তিরবাজার পুর পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, শান্তিরবাজার মহকুমা শাসক সঞ্জীব চাকমা, বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিকসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বদা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সেইসঙ্গে আজ তাঁরা নিজেদের শরীরের এক বিন্দু রক্ত দান করে মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি রক্তদানে এগিয়ে আসার জন্য দমকল বাহিনীর সকল কর্মীকে ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, রক্ত কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে কেনা সম্ভব নয়। সরকার চাইলেও বাজেটের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে রক্ত সংগ্রহ করা যায় না। তাই রক্তের সংকট মেটাতে সকলকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বারবার স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
অন্যদিকে বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং তাঁর বক্তব্যে দমকল বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে নিজের বিশেষ তহবিল থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিনের রক্তদান শিবিরে মোট ৭০ জন রক্তদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। দমকল বাহিনীর কর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*