বকেয়া বৃত্তি নিয়ে সরব রঞ্জিত দেববর্মা! উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের শীর্ষ মহলে চিঠি দিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ জানুয়ারি || রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা ফের উপজাতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হলেন। বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, এসটি (তিপ্রাসা) শিক্ষার্থীদের পোস্ট-ম্যাট্রিক বৃত্তি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকায় তিনি সরাসরি উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, দপ্তরের সচিব ও পরিচালকের কাছে পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।
বিধায়ক জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিপুল সংখ্যক তফসিলি উপজাতি শিক্ষার্থী এখনও পর্যন্ত পোস্ট-ম্যাট্রিক বৃত্তির টাকা পাননি। একাধিকবার আবেদন ও আরজি জানানো সত্ত্বেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। দপ্তরের তরফে যে ব্যাখ্যা বা কারণ দেখানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয় এবং বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর চিঠিতে দাবি করেন, কৃত্রিম প্রযুক্তিগত জটিলতার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখা হয়েছে। ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বহু ছাত্রছাত্রী। বিষয়টিকে তিনি একটি “জ্বলন্ত সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রায়পুর রবীন্দ্র বিবেক বিএড কলেজ, কিন্ডার কিং কলেজ অব এডুকেশন, বিদ্যাসাগর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাধা কৃষ্ণ এডুকেশনাল চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন, বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি এবং চৌধুরী রণবীর সিং ইউনিভার্সিটির কাগজপত্র।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বিধায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই চিঠিগুলি পাওয়ার পর উপজাতি কল্যাণ দপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বঞ্চিত এসটি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনায় উপজাতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও, কবে বাস্তবে বৃত্তির টাকা মিলবে—তা এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*