গোপাল সিং, খোয়াই, ১৬ জানুয়ারি || রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার উত্থাপিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনুমোদন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে আলোচনার জন্য জমা দেওয়া প্রশ্নগুলি বিধানসভার অধ্যক্ষের নির্দেশে বাতিল হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ শরিক দলের এই বিধায়ক।
নিজের সামাজিক মাধ্যমে রঞ্জিত দেববর্মা লেখেন, তিনি বিশেষ করে তিপ্রাসা জনগণের অধিকার, স্বার্থ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত একাধিক জরুরি প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেগুলি অনুমোদন করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দেশের সকল মানুষই জানেন যে তিপ্রাসা জনগণের বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই নানা অজুহাতে তা আটকে দেওয়া হয়। বিষয়টিকে তিনি “দুঃখজনক ও হতাশাজনক” বলে উল্লেখ করেন।
ত্রিপুরা বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিধানসভার সচিব এ. কে. নাথ বিধায়ককে জানান, প্রশ্ন নম্বর ৫৫ বিধানসভার কার্যবিধির ৪৮ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী বাতিল করা হয়েছে, কারণ সেগুলি নিয়ম ৪১(১৫)-এর শর্ত পূরণ করেনি।
বাতিল হওয়া প্রশ্নে উল্লেখ ছিল, ২২শে ডিসেম্বর ত্রিং (ত্রিপুরাব্দ) নববর্ষ উদ্যাপন দিনটিকে সরকারী ছুটি ঘোষনা করার জন্য রাজ্য সরকারের কোন চিন্তা ভাবনা আছে কি না? এছাড়াও তিনি দাবি করেন আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাতিল করা হয়েছে এবং তিনি তা জনসমক্ষে তুলে ধরেন, যেমন — এসসি/এসটি প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্ট ১৯৮৯ অনুযায়ী দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও সাজা সংক্রান্ত তথ্য, টিটিএএডিসি এলাকায় সিএএ প্রযোজ্য হবে কি না, টিটিএএডিসি থেকে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো বিলগুলির বর্তমান অবস্থা এবং রাজ্য জনজাতি বিকাশ নিগমের মাধ্যমে তফসিলি জনজাতি যুবক-যুবতীদের দেওয়া সফট লোন সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রশ্ন।
রঞ্জিত দেববর্মার দাবি, এই প্রশ্নগুলি সরাসরি জনজাতি মানুষের অধিকার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। সেগুলি আলোচনার সুযোগ না পাওয়ায় বিধানসভায় জনজাতি স্বার্থের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলেই তিনি মনে করছেন। তাই তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছেন বলেও সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান।
