গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ জানুয়ারি || অবৈধ নেশা, তীর জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে এবার সক্রিয় ভুমিকায় খুদ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। বাইজালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির নিষ্ক্রিয়তায় রামচন্দ্রঘাট এলাকায় মাদক, নেশা, গাজার চাষ, তির ও জুয়ার রমরমা চললেও, বাইজালবাড়ী পুলিশ চোখ বুজে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু এবার খুদ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার হস্তক্ষেপে শনিবার গোপন অভিযানে তীর জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে হাতেনাতে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩১ হাজার টাকারও বেশি নগদ অর্থ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বাইজালবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ জুয়ার রমরমা চলছিল। বিশেষ করে তীর জুয়ায় জড়িয়ে বহু দরিদ্র পরিবার, দিনমজুর ও কৃষক আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সরাসরি থানার অফিসার-ইন-চার্জ যুগল ত্রিপুরার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং জুয়া নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে জানান।
বাইজালবাড়ি থানার ওসি যুগল ত্রিপুরা স্বীকার করেছেন যে, এলাকায় জুয়ার কার্যকলাপ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দিকে কিছু বাজার এলাকায় প্রকাশ্যেই জুয়া চলত। একাধিক অভিযানের পর জুয়াড়িরা কৌশল বদলে পুলিশি তৎপরতার ওপর নজরদারি শুরু করে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই গা ঢাকা দিত। কিন্তু খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের তত্বাবধানে এই পরিস্থিতিতে পুলিশ নতুন কৌশল অবলম্বন করে। সাধারণ পোশাকে পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন করে গোপনে নজরদারি চালানো হয়। এর ফলেই বৃহস্পতিবার তিন জুয়াড়িকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ। ধৃতদের নাম বিবাস দেববর্মা, কুমুদ দেববর্মা ও রমেশ দেববর্মা।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বাইজালবাড়ী পুলিশের উপর আস্থা রাখতে না পেরে নিজেই তৎপর হয়েছেন। রামচন্দ্রঘাট এলাকাকে জুয়ামুক্ত করতে তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
যদিও এই অভিযানে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও জনপ্রতিনিধির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
