বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৬ মার্চ || এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শান্তিরবাজারে দেশবন্ধু ক্লাব আয়োজিত বাসন্তী পূজার শুভ সূচনা করা হলো। বৃহস্পতিবার মহাষ্টমী তিথিতে পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশবন্ধু ক্লাব শুধু ধর্মীয় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নানান সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমেও এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ক্লাবের সম্পাদক প্রবীর বরন দাস সর্বদা সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। এলাকার মানুষ যেকোনো সমস্যায় পড়লে ক্লাবের সদস্যরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বলেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্লাবটির প্রতি বিশেষ আস্থা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় দেশবন্ধু ক্লাবের সদস্যরা যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেছেন, তা এলাকায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। গরিব পরিবারের কন্যাদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সহায়তা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো—সবক্ষেত্রেই ক্লাবের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়।
সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবছরও ক্লাবের উদ্যোগে বাসন্তী পূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা এবছর ৬২ বছরে পদার্পণ করেছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে পূজার সূচনা হয়। বগাফা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান কৃষ্ণা রিয়াং ফিতা কেটে পূজামণ্ডপ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সম্পাদক প্রবীর বরন দাস, সহ-সম্পাদক দেবাশীষ ভৌমিকসহ অন্যান্য সদস্যরা। অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্পাদক জানান, এবছর পূজার জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে নানা সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। অষ্টমীর দিন ভক্তদের জন্য পুষ্পান্ন বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দশমীর দিন ঝাড়খণ্ড ও পুরুলিয়া থেকে শিল্পীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য কার্নিভালের আয়োজন করা হবে।
দেশবন্ধু ক্লাবের এই বাসন্তী পূজাকে ঘিরে শান্তিরবাজার মহকুমাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এক প্রকার মিলনমেলার রূপ নিয়েছে।
