গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ এপ্রিল || ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালিত এক্সাইজ সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার প্রকাশিত ‘প্রোভিশনাল অ্যানসার কি’ এবং প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের অভিযোগ তুলে সরব হলেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। সোমবার (২৭শে এপ্রিল, ২০২৬) তিনি টিপিএসসি-র চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়ে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিধায়ক তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জেনারেল স্টাডিজ (সিরিজ-বি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত উত্তরপত্রে (Provisional Answer Key) বেশ কিছু মারাত্মক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী:
১। ভুল প্রশ্ন: প্রশ্ন নম্বর ২২, ২৮ এবং ৩৯-এ ত্রুটি রয়েছে।
২। ভুল উত্তর (প্রোভিশনাল কি অনুযায়ী): ২৩, ২৬, ২৭, ৩৬, ৫৭ এবং ৮৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ভুল দেওয়া হয়েছে।
এই ত্রুটিগুলোর কারণে যোগ্য প্রার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য বিধায়ক কমিশনকে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন:
১. ভুল ও বিতর্কিত প্রশ্নের জন্য সমস্ত পরীক্ষার্থীকে ‘গ্রেস মার্ক’ প্রদান করতে হবে।
২. রাজ্যের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে, বিশেষ করে তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি জনজাতি (ST) প্রার্থীদের কথা ভেবে, উত্তর চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রতি প্রশ্নে ১০০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম বাতিল করে বিনামূল্যে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।
৩. এই ধরণের ভুলের জন্য দায়ী আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. যেহেতু ভুলটি কমিশনের পক্ষ থেকে হয়েছে, তাই অসহায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি বাবদ সংগৃহীত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে।
উল্লেখ্য, অর্থ দপ্তরের অধীনে ৩৯টি স্থায়ী পদে এক্সাইজ সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালে ১১/২০২৫ নম্বর বিজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছিল। গত ২৬শে এপ্রিল স্থানীয় সংবাদপত্র ‘স্যন্দন পত্রিকা’-য় এই সংক্রান্ত অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর চিঠির সাথে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ ও ব্যাখ্যামূলক নথিও সংযুক্ত করেছেন।
বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে কমিশনকে দ্রুত সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে। এই চিঠি পাঠানোর পর থেকে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, টিপিএসসি এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
