স্বচ্ছতার প্রতীক ‘নির্মল মোতি’ রাজ্যের মুখ্যসচিবের পর মুসৌরির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী অ্যাকাডেমিতেও পৌঁছল, জেলাশাসক রজত পন্থের অভিনব উদ্যোগের প্রশংসা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে

গোপল সিং, খোয়াই, ১৮ জুন || পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি খোয়াই জেলার অঙ্গীকারকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে এক অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিলেন খোয়াই জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা রজত পন্থ। খোয়াই জেলা প্রশাসনের তৈরি করা বিশেষ ‘স্বচ্ছতা ম্যাসকট’— “নির্মল মোতি”-কে এবার রাজ্য ও জাতীয় স্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়ে ত্রিপুরার পরিবেশ আন্দোলনের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হলো।
এই উদ্যোগের ধারা বজায় রেখে আজ, ১৮ই জুন, খোয়াইয়ের স্বচ্ছতা আন্দোলন ও পরিবেশগত অভিভাবকত্বকে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে তুলে ধরেন আইএএস অফিসার তথা ডিএম রজত পন্থ। তিনি উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিস্থিত দেশের খ্যাতনামা সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-র ডিরেক্টর শ্রী শ্রীরাম তারানিকান্তি’র সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং খোয়াইয়ের নিজস্ব স্বচ্ছতা ম্যাসকট “নির্মল মোতি” তাঁর হাতে তুলে দেন।
গত ১৭ই জুন, খোয়াইয়ের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হিসেবে জেলাশাসক রজত পন্থ ত্রিপুরা সরকারের মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা’র সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে এই অভিনব “নির্মল মোতি” ম্যাসকটটি তুলে দেন। খোয়াই জেলার এই সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্য সচিব। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং পরিবেশ-বান্ধব জেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে খোয়াই যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, তার জন্য জেলা প্রশাসন ও খোয়াইবাসীকে সাধুবাদ জানান তিনি।
এই ম্যাসকটটি মূলত একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে খোয়াই জেলার যৌথ প্রয়াস, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক জনভগীদারিত্ব বা গণ-অংশগ্রহণকে প্রতীকায়িত করে। দেশের হবু প্রশাসনিক কর্তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শীর্ষ আধিকারিকের হাতে ত্রিপুরার একটি মহকুমার এই গ্রামীণ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের স্বীকৃতি এক বড়সড় প্রাপ্তি।
খোয়াই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অভিনব উদ্যোগ এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ-সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে খোয়াই জেলা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। “নির্মল মোতি” ম্যাসকটটি আগামীদিনে জেলার পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে এবং একটি ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদী সচেতন মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*