গৌরাঙ্গটিলা বিদ্যালয়ে এলপিজি গ্যাসের পাসবই চুরির অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা শিক্ষা আধিকারিকের দ্বারস্থ এসএফআই

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ আগস্ট || খোয়াই জেলার গৌরাঙ্গটিলা দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সংযোগের পাসবই চুরি করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তথা শিক্ষক নেতা বরুণ কুমার দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার খোয়াই জেলা শিক্ষা আধিকারিকের নিকট ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি জমা দেয় ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর খোয়াই বিভাগীয় কমিটি।
এসএফআই-এর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের এলপিজি গ্যাস সংযোগের পাসবই চুরি করে প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি সংগঠনের।
স্মারকলিপিতে এসএফআই নেতারা উল্লেখ করেন, একজন শিক্ষকের ওপর ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের গুরুদায়িত্ব বর্তায়। সেই অবস্থানে থেকে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। পাশাপাশি স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক অতীতেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের চাল, কলা এবং নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সরকারি বা স্বাধীনভাবে এখনও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এসএফআই-এর পক্ষ থেকে জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে বিদ্যালয়গুলিতে এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম রোধে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা।
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই খোয়াই বিভাগীয় কমিটির নেতা-কর্মী অমিত্রা নন্দী, সাগর পাল, সৌরভ শীল, সায়ন্তিকা দেব এবং সৈকত দাস।
জেলা শিক্ষা আধিকারিক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াই মহকুমার শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*