সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৭ আগস্ট || সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী রেনুকা চাকমার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গণ্ডাছড়া মহকুমার ধলাঝাড়ী ও গাছবাগান এলাকায়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহশিল্পী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিল্পীর প্রয়াণে শুধু একটি পরিবার নয়, সমগ্র সাংস্কৃতিক অঙ্গনই হারাল এক আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান সহযাত্রীকে।
রেনুকা চাকমা দীর্ঘদিন ধরে জুনি রং ঢং কালচারাল টিমের একজন সক্রিয় সদস্যা হিসেবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন যাত্রাদলে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে।
শিল্পীসত্তার পাশাপাশি তাঁর সহজ-সরল, বিনয়ী ও আন্তরিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণ আজও সবার স্মৃতিতে অমলিন। তাই তাঁর অকাল প্রয়াণকে সাংস্কৃতিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি বলেই মনে করছেন সহশিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
শেষ শ্রদ্ধায় সাংস্কৃতিক পরিবারের সদস্যরা
রেনুকা চাকমার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার, ৭ আগস্ট, জুনি রং ঢং কালচারাল টিমের সদস্য-সদস্যারা তাঁর নিজ বাসভবনে উপস্থিত হন। সেখানে তাঁরা ফুলের মালা ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন জুনি রং ঢং কালচারাল সংস্থার চেয়ারম্যান সুমন্ত সেন চাকমা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেনক্ষ চাকমা, নন্দ মোহন চাকমা, পূর্ণমোহন চাকমা এবং ইন্দ্র কুমার চাকমা।
স্মৃতিতে অমলিন থাকবেন রেনুকা চাকমা
জীবনের পরিসমাপ্তি হলেও একজন শিল্পীর কর্ম ও অবদান কখনও হারিয়ে যায় না। রেনুকা চাকমার অভিনয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নিষ্ঠা এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। জুনি রং ঢং কালচারাল পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
রেনুকা চাকমার প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর সাংস্কৃতিক অবদান ও মানবিক গুণাবলি আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
