সরকারি সিমেন্ট বিতর্কে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ঘিরে প্রশ্ন, বিডিও-র ‘ক্লিনচিট’ নিয়ে ক্ষোভ, ৫২ বস্তা সরকারি সিমেন্ট নষ্ট হওয়ার ঘটনায় আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি দাবি, প্রকৃত তদন্ত না হওয়ার অভিযোগে সরব খোয়াইবাসী

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ আগস্ট || খোয়াই আরডি ব্লকে সরকারি কাজের জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট পঞ্চায়েত সমিতির এক নেত্রীর বাড়িতে মজুত রাখা এবং সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সরকারি নির্মাণসামগ্রীর ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর খোয়াই ব্লকের বিডিও অনিরুদ্ধ দাস পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ভাইরাল ভিডিও, ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট চালকের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্য সিঙ্গিছড়া এলাকার একটি বাড়িতে মজুত রাখা ৫২ বস্তা সরকারি সিমেন্ট দীর্ঘদিন সঠিক তদারকির অভাবে পড়ে থেকে নষ্ট ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। তবে সিমেন্ট আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যবহৃত সিমেন্ট ব্লক স্টোরে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এই রিপোর্টকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, খোয়াই ব্লক কার্যালয় থেকে অল্প দূরত্বেই যদি নির্মাণকাজ চলছিল, তাহলে ব্লকের স্টোর থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় সিমেন্ট কাজের জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হলো না কেন? সরকারি নির্মাণসামগ্রী কেন ব্যক্তিবিশেষের বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল এবং কেন তা নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো—এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর তদন্ত রিপোর্টে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত কমিটিতে ছিলেন পঞ্চায়েত সুপারভাইজার কিশোর বর্মণ, পানু দেবনাথ, তন্ময় দত্ত চৌধুরী, সুমন দত্ত এবং তপন সরকার। কমিটি গত ২৫ আগস্ট তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় বলে জানা গেছে।
এদিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও সরকারি সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই প্রশাসনিক তদারকির বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সিমেন্ট কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হয়েছিল, কেন ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব কী ছিল—এসব বিষয় আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর না থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীদের একাংশ ও স্থানীয় নাগরিকরা।
তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি—এই দাবির পাশাপাশি সরকারি সিমেন্ট নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং সিমেন্ট মজুত রাখার সিদ্ধান্তের দায় কার—এখন সেটিই খোয়াইবাসীর মূল প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনে উচ্চতর পর্যায়ে তদন্তের দাবি উঠছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*