১৪ই আগস্ট থেকে বন্ধ সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের এক্স-রে পরিষেবা, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ৩০ আগস্ট || দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে রয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক্স-রে মেশিনটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ‘মেডিসিতি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’ (Mediciti Health Care Services Pvt. Ltd.)। মেশিনটি বিকল হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। সংস্থার পক্ষ থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করা হলেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র পুরনো মেশিন মেরামত করেই কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব? সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের বর্তমান এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ১৫ বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পুরনো প্রযুক্তির এই মেশিনের কার্যক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান চিকিৎসা পরিষেবার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাসপাতালে একটি আধুনিক ডিজিটাল রেডিওগ্রাফি (DR) মেশিন স্থাপনের দাবি উঠেছে।
এদিকে, শনিবারও এক্স-রে করাতে এসে অনেক রোগীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক ক্ষুব্ধ নাগরিক জানান, দূরবর্তী এলাকা থেকে হাসপাতালে এসে এক্স-রে পরিষেবা না পাওয়ায় তাঁদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি রোগী ও পরিজনদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত না করে স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসন অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক। দ্রুত বিকল মেশিনটি মেরামত করে এক্স-রে পরিষেবা চালু করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালে একটি আধুনিক DR মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এখন দেখার, স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের রোগীদের স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*