আপডেট প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ০৭ অক্টোবর || এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বোকাফা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মনপাথর ফাঁড়ি থানা সংলগ্ন ৮ নম্বর জাতীয় সড়কে পথ অবরোধে বসেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকরা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতেও নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবিতে মনপাথর ফাঁড়ি থানা সংলগ্ন জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, মণ্ডল সভাপতি দেবাশিষ ভৌমিক এবং দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন মজুমদার। তাঁরা দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
তবে বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর প্রতিবাদে বুধবার দিনের বেলায় ফের জাতীয় সড়ক অবরোধে বসেন তাঁরা। তাঁদের মূল দাবি, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
এদিনের অবরোধ থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ আরও দাবি করেন, রাজ্যস্তরের নেতৃত্বকে তিপ্রা মথার সঙ্গে এনডিএ-র জোট পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং জোটে থাকা তিপ্রা মথার দুই মন্ত্রীকে বহিষ্কার করতে হবে।
দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর স্থানীয় বিধায়ক, মণ্ডল সভাপতি এবং পুলিশ আধিকারিকরা ফের ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কিন্তু দলের উচ্চ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির হয়ে কাজ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিচুতলার কর্মীদের নিরাপত্তা ও সমস্যার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
অবরোধস্থলে বিজেপি নেতা মম্ভু মগ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বামেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করে তাঁরা বিজেপিকে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিপ্রা মথার সঙ্গে জোটের কারণে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের সময় বিজেপির এজেন্টদের উপর তিপ্রা মথার কর্মীদের হামলা হয়েছে।
মম্ভু মগ বোকাফা ব্লকের রিটার্নিং অফিসার তথা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মনোজ পাল এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বাপি দেববর্মার বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তবে এই অভিযোগগুলিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিজেপি কর্মী দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে দলত্যাগের বার্তাও দেন বলে দাবি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অবরোধস্থল থেকে সরে যান।
ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বোকাফা-সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নজর রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
