সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরবিদায় রাজপরিবারের ‘বুবাগ্রা’ প্রদ্যোৎ বিক্রমের, ‘ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি’-তে আবেগঘন বার্তা, তিপ্রাসা চুক্তি সময়মতো রূপায়ণে জোর

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ অক্টোবর || ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক ও চাঞ্চল্যকর মোড়! সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে দাঁড়ানোর এবং কোনো রাজনৈতিক পদে না থাকার চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন তিপ্রামথা পার্টি-র প্রতিষ্ঠাতা ও ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা (বুবাগ্রা)। মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ‘ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠি’ প্রকাশ করে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যবাসীর প্রতি আবেদন জানান, বুবাগরা রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছেন। অনুগ্রহ করে পড়ুন, শেয়ার করুন এবং মন্তব্য করুন।
এদিকে বুব্রাগ্রা জানান, এটি কোনো ক্ষণিকের রাগ বা সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা এবং স্বাস্থ্য, পরিবার ও মানসিক শান্তির প্রয়োজনে নেওয়া এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সক্রিয় রাজনীতি, রাজনৈতিক পদ ও দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। তবে রাজনীতি ছাড়লেও ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ ও জনজাতিদের অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের স্বার্থে তিনি সর্বদা যুক্ত থাকবেন এবং পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবেন। রাজপরিবারের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ব্রু পুনর্বাসন এবং ঐতিহ্যগত অধিকার রক্ষার আন্দোলন ছিল তাঁর অন্যতম মূল লক্ষ্য। টিপ্রামোথা প্রতিষ্ঠার পর একতা বা ‘থানসা’-র শক্তিতে বর্তমানে দলে ৩,৪২৮ জন নির্বাচিত ভিলেজ কাউন্সিল প্রতিনিধি, ২৪ জন এমডিসি এবং ১৩ জন বিধায়ক রয়েছেন।
প্রদ্যোৎ বিক্রম জোর দিয়ে বলেন, ‘তিপ্রাসা চুক্তি’ কোনো একক ব্যক্তি বা দলের থেকে অনেক বড়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই চুক্তি দ্রুত রূপায়ণ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান; অন্যথায় এটি জনগণের বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। দীর্ঘ পথচলা, সমঝোতা আলোচনা ও অনবরত লড়াই তাঁর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত শান্তি এবং পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে আবেগঘন কণ্ঠে ব্যক্ত করেন তিনি। প্রদ্যোৎ বিক্রম তাঁর চিঠির শেষে ত্রিপুরাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন এবং এক ঐক্যবদ্ধ, উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ ত্রিপুরা গড়ার স্বপ্নের ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*