আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৬ অক্টোবর || টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও নিয়োগের মুখ দেখেননি রাজ্যের সাতজন বেকার যুবক-যুবতী। ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় টেট-১ ও টেট-২-এ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নানা জটিলতায় তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে TRBT এবং শিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েও কোনও নির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় এবার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় রাজ্যের এই সাতজন প্রার্থী টেট-১ ও টেট-২ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাঁদের টেট সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল TRBT-এর পক্ষ থেকে সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করা হলে ওই সাতজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে TRBT-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, তাঁরা NIOS থেকে D.El.Ed করেছেন এবং ওই বোর্ডের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে না। এরপর হতাশ হয়ে আইনের দ্বারস্থ হন সাতজন চাকরিপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উচ্চ আদালতে WP(C)-242 এবং WP(C)-243 নম্বরে দুটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ উচ্চ আদালত মামলাগুলির রায় প্রদান করে। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি অনুযায়ী, আদালত তাঁদের D.El.Ed সার্টিফিকেট বৈধ বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি TRBT এবং রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে ২০২৫ সালের সুপারিশ তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সুপারিশ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের।
পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রায় কার্যকর করার জন্য আরও ছয় মাস সময় চাওয়া হলেও আদালত ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, ওই সময়সীমার পর আর সময় দেওয়া হবে না বলেও আদালতের নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি চাকরিপ্রার্থীদের।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও TRBT-এর পক্ষ থেকে নতুন সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং শিক্ষা দপ্তরের তরফেও তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সাত চাকরিপ্রার্থীর। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা TRBT ও শিক্ষা দপ্তরের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন বলে জানিয়েছেন।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, টেট পাশ করার পরও দীর্ঘ চার বছর ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের। আদালতের নির্দেশের পরও বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁরা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত আদালতের নির্দেশ কার্যকর করে তাঁদের নাম সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন হতাশাগ্রস্ত এই সাতজন চাকরিপ্রার্থী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং তাঁরা দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
