আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। ফ্রান্সের শার্লি হেবদো প্রত্রিকায় মহানবী (সা:) কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন ছাপা হবার পর হতে গত দুদিন ধরে চলা প্রতিবাদে অন্তত ১০ ব্যক্তি মারা গেছে নাইজারের প্রেসিডেন্ট।
তিনি আরো জানান গত শনিবার রাজধানী নিয়ামিতে ৫ জন মারা গেছে। মৃতব্যক্তিরা সকলেই চার্চ ও বারের ভেতরে ছিলেন।
পুলিশ বিক্ষোভরত যুবকদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষাভকারীরা ৬ টি চার্চে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নিয়ামিতে অনেক দোকান পাট লুটপাট করে।
পুলিশ স্থানীয় ইসলামিক দলের একটি সমাবেশ বাতিল করে । বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ চৌকিতে হামলা করে এবং দুটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশের বরাতদিয়ে রয়টার্স জানায়, দগ্ধ চার্চের বাইরে দুজনের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর আরেকজন মহিলার মৃতদেহ বারের বাইরে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, টিয়ার গ্যাসের ধোয়ার কারনেই তার মৃত্যু ঘটেছে।
বিক্ষোভকারী আমাদু আব্দুর ওহাব জানান, ”তারা আমাদের মহানবী (সাঃ) কে অপমান করেছে। যার প্রতিবাদ করার জন্য আমরা সকল মসুলমানদেরকে এক হতে আহবান জানিয়েছিলাম কিন্তু রাস্ট্র আমাদের সেই অনুমুতি দেয়নি।আর সে কারনেই আমরা আাজকে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছি।”
নাইজারে ফ্রান্সের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের তীব্র সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে ও ঘর থেকে না বের হবার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
রাজধানী নিয়ামির বাইরেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরের শহর মারাদিতে দুটি চার্চে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসার পাশের একটি চার্চে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে গত শুক্রবারের বিক্ষোভচলাকালে এক পুলিশসহ চারজন নিহত হয়।
এর আগে মালি, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও আলজেরিয়া সহ পশ্চিশ আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হযেছে। উল্লেখ্য পশ্চিম আফ্রিকার আধকাংশ দেশই ফ্রান্সের ঊপনিবেশ ছিল।
পশ্চিমের অনেক দেশ শার্লির এই কর্মকান্ডকে সমর্থন করেছে এবং একে তাদের মত প্রকাশের অধিকার বলে আখ্যায়িত করেছ।
গত সপ্তাহের বুধবারে প্যারিসের বিখ্যাত ব্যাঙ্গ-রসাত্মক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলার মধ্য দিয়ে ওই সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয়।দুই বন্দুকধারী শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে ১২ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর প্যারিসের কোশের সুপারমার্কেটে আরেক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় আরো চারজন।
এর পরদিন এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন আরেক বন্দুকধারীর গুলিতে। পরে পুলিশ ওই তিন বন্দুকধারীকেই গুলি করে হত্যা করে।
