সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৭ জুলাই || বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সময় কালে টিউশন বাণিজ্য চালিয়ে শিক্ষকরা তাদের মর্যাদা হারাচ্ছে। দিন দিন রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এক শিক্ষক বাবু উনার টিউশন বাণিজ্যকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলছে। অথচ উনি আবার তেলিয়ামুড়ার তুইসিন্দ্রাই বাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চাকুরী করেন। ওই গুণধর শিক্ষকের নাম নন্দ লাল চৌধুরী। ছাত্র মহলে পরিচিত নন্দু স্যার। উনি গত কয়েকদিন ধরে জ্বর সংক্রমণে ভুগছিলেন তেলিয়ামুড়ার গৌরাঙ্গ টিলা স্থিত নিজ বাড়িতেই। এই জ্বর সংক্রমণ নিয়েই সরকারি স্কুলের শিক্ষক নন্দ লাল চৌধুরী নিজ বাড়িতেই টিউশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে।
রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের বিধি নিষেধগুলিকে বগলদাবা করে চলছে এই শিক্ষকের টিউশন বাণিজ্য। টিউশন বাণিজ্যের কক্ষের ফটকে তালা ঝুলিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝাতে চাইছেন টিউশন বাণিজ্যে তিনি লিপ্ত নন। অথচ বাস্তব চিত্র অন্যরকম। টিউশন বাণিজ্য নিয়ে এই গুণধর শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সুবোধ বালকের মতো চুপটি করে নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে থাকেন তাও আবার মাক্স বিহীন অবস্থায়।
কিন্তু উনার টিউশন বাণিজ্যের কক্ষে গিয়ে প্রত্যক্ষ করা গেল ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন মাক্স বিহীন অবস্থায়, তেমনি জ্বরে আক্রান্ত শিক্ষক নন্দ লাল চৌধুরীও ছিলেন মাক্স বিহীন অবস্থায়। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলেও করোনা পরীক্ষা করেননি। শিক্ষক বাবু ক্যামেরার সামনে কিছু না বললেও এলাকারই এক প্রমিলা তেড়ে-ফুঁড়ে আসেন শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে।
শিক্ষক বাবুর পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ওই প্রমিলা জানায়, শিক্ষক নন্দ লাল চৌধুরী অসুস্থ, জ্বরে আক্রান্ত তিনি। প্রশ্ন থেকে যায় একজন শিক্ষক জ্বরে আক্রান্ত হয়েও এবং শিক্ষা দপ্তরের টিউশন বাণিজ্যের গাইডলাইনকে বগলদাবা করে কিভাবে টিউশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক বাবু আবার নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থের বিনিময়ে পাঠ দান করেন বলেও জানা গেছে।
