আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ০৭ জানুয়ারি || মাতা ত্রিপুরেস্বরীর পবিত্র ভূমি আমাদের এই ত্রিপুরা রাজ্যে জাতি উপজাতি সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। ছোট্ট এই সবুজ ঘেরা পাহাড়ি রাজ্যে বরাবরই সংহতির মেলবন্ধনে পিছিয়ে নেই। তাইতো ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রুটি রোজি এবং জীবন বাঁচবার জন্য ও খাদ্যের সন্ধানে রাজ্যে আগমন ঘটে অনেকের। এমনি একটি চিত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরছি যা অত্যন্ত কঠোর এবং কতই না কষ্টের তাদের জীবন।
আজ কাল বক্সনগর ব্লকের অন্তর্গত উত্তর কলমচৌড়া গাও সভার টাউন হল মাঠ প্রাঙ্গনে মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত একদল লৌহার সম্প্রদায়ের সাত পরিবারের লোক তাবু ঘেরে অস্থায়ী ছাউনি টাঙিয়ে বসবাস করছে। তাদের রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, থাকেন সাগর জেলা, আর গ্রামের নাম হচ্ছে মালথন। মালথন গাঁওয়ে শতকরা ৯০ জন লোকই কামারের কাজে নিযুক্ত। লৌহার সম্প্রদায়ের লোকেরা শিক্ষার জন্য ধার দারে না। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পেশাকে আক্রে ধরে জীবিকা নির্ভরশীল করে আসছে। এই লৌহার সম্প্রদায়ের না আছে ক্ষেতিবাড়ী না আছে অর্থ সম্পদ। বৎসরে সাত/আট মাস ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে স্ত্রী পুত্র কন্যা এমনকি ছোট্ট কঁচিকাঁচা শিশুদের কোলে নিয়ে লৌহার তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেই আহার জোগাড় করছে। এক টুকরো রুটি এবং দু’মুটো খাদ্যের জন্য এই কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেই উনুন জালিয়ে গরম লোহা গলিয়ে দা, খুন্তি, কুড়াল, সাবল, হাতা, টাক্কাল, ছুড়ি, বটি, শাটী আরো অনেক জিনিসপত্র তৈরি করছে ও বিক্রি করেই পেটের আহার যোগাচ্ছে। কোলের শিশু নিয়ে ঝুলনা টাঙিয়ে মা লোহা পিঠাই করছে সত্যিই দুঃখ ও বেদনাদায়ক। আর ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলের বদলে হাতে লোহার হাতুরী হায়রে নিদারুণ জীবন। মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত লৌহার সম্প্রদায়ের একজন ৬৫ বছর বয়স্ক শেরো সিংয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মগত পেশা কনো রকমে সংসার চলে মাসে পাঁশত টাকা ভাতা পাই বাবু। তবে আমরা দু’শত পরিবারের লৌহার সম্প্রদায়ের লোক সারা ত্রিপুরা রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু এখানকার পঞ্চায়েতের লোক আমাদের নিরাপত্তা ও ছাউনীর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। বেচা বিক্রি করতে কনো অসুবিধা হচ্ছে না। তারপরও সরকারের শুভদৃষ্টি আকর্ষণ করছে।ধীরে ধীরে এই রাজ্যেও রোজগারের দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
