সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৫ জানুয়ারি || নিজের অদম্য ইচ্ছা, কিছু করার তাগিদ আর মনেবর্তমানর মধ্যে যদি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অনুপ্রেরণা থাকে তাহলে যাবতীয় প্রতিকূলতাকে ভেদ করেই এগিয়ে যাওয়া যায়। শুধুমাত্র সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকেও যে সমাজের বুকে অনন্য নিদর্শন স্থাপন করা যায় তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত কল্যাণপুরের গোপালনগর গ্রামের উদ্যমী যুবক প্রদ্যুৎ পাল। বছর তিরিশের এই উদ্যমী যুবকের কৈশোর কাল থেকেই কৃষি কাজে হাতেখরি। এরপর ধীরে ধীরে স্বপ্ন দেখতে থাকেন এই কৃষিকে ভর করেই এগিয়ে যাওয়ার। আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় জানালেন, প্রতিকূলতা অনেক এসেছে কিন্তু থেমে থাকেননি। আর থেমে থাকেননি বলেই আজ পনের কানির গোছানো কৃষি জমিতে জৈবিক পদ্ধতিতে মিশ্র চাষের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন প্রদ্যুৎ পাল। নিজের হাতে পরিকল্পনা করে এবং সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চলেছেন রকমারি মরসুমি সবজি চাষ। বিভিন্ন ধরনের শাকের সমারোহও রয়েছে এই উদ্যমী কৃষকের কৃষি জমিতে। মিশ্রচাষে জোর দিতে গিয়ে প্রানি পালনেও অত্যন্ত দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন তিনি। ঘুরে দেখা গেল হাঁস, মুরগি ছাগল পালনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই সাথে সাথে আগামী দিনে এই কৃষি জমিকে পরিকল্পনা করে ব্যবহার করে গরুর ফার্ম তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে এমনটাই জানালেন কল্যাণপুরের সাড়া জাগানো কৃষক প্রদ্যুৎ পাল। জানালেন, বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বী, তবে আগামী দিনে সরকারের সহায়তায় ভর করে এই নিজস্ব জমিকে ভিত্তি করে কৃষিতে আরো উন্নতি করতে চান তিনি।
পাশাপাশি সমাজের উদ্দেশ্যে বার্তা রাখতে গিয়ে বলেন, কৃষি যেহেতু আমাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি, আর যেহেতু আমাদের ভৌগলিক অবস্থা কৃষির ক্ষেত্রে ইতিবাচক তাই এই কৃষিকে ভর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে নিজের পাশাপাশি সমাজের অর্থনীতির চেহারাটা বদলে যেতে পারে।
কল্যাণপুরের কৃষি তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত দেববর্মার কাছে এই উদ্যমী কৃষক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এই কৃষকের উদ্যমী মানসিকতাকে কুর্নিশ জানান। পাশাপাশি বলেন, বরাবরই দপ্তর প্রদ্যুৎ বাবুদের মত উদ্যমীদের পাশে। আগামী দিনেও শুধু প্রদ্যুৎ পাল না, অন্যরাও যারা কৃষিকে ভর করে এগিয়ে যেতে চাইবে দপ্তর সহায়তা করবে।
