সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৭ জুলাই || তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের আওতাধীন উত্তর গোকুলনগর এডিসি ভিলেজের বিলাই হাম এলাকায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মাত্র সাত বছরের এক শিশুর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফের একবার স্বাস্থ্যকর্মী তথা আশা কর্মীদের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠে এল সামনে।
জানা গেছে, মৃত শিশুটি ভগিরথ রিয়াংয়ের পুত্র। পরিবার সূত্রে খবর, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতেই পড়ে ছিল শিশুটি। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হয়নি পরিবারের পক্ষে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী তথা আশাকর্মীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন শিশুর পরিবার।
অভিযোগ, একবারের জন্যও ওই আশাকর্মী শিশুটির খোঁজ নিতে বাড়িতে যাননি। এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আশাকর্মী কোনো প্রকার সহযোগিতা করেননি। ফলে চিকিৎসার অভাবে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে।
সোমবার সকালে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্ত পরীক্ষায় ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা শিশুটিকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তেলিয়ামুড়া থেকে আগরতলার পথে তুই চিনদ্রাই এলাকায় পৌঁছতেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা শিশুটি নাড়াচাড়া করা বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে পুনরায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেশ কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল এবং হাসপাতালে আনার অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। সময়মতো চিকিৎসা হলে শিশুটির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত বলে মত তাদের।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এই ধরনের চরম গাফিলতি বরদাস্তযোগ্য নয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মহল মনে করছে, এভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে একের পর এক নিরীহ শিশু চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, স্থানীয়দের দাবি— দোষী স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।
