ছয় নিরীহ আদিবাসী অপহরণ: পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

আপডেট প্রতিনিধি, ১১ জুলাই || সরকারি স্বীকৃত আধাসামরিক বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) – সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছয়জন নিরপরাধ আদিবাসী বেসামরিক নাগরিককে অপহরণের অভিযোগ তুলে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী যুব ফেডারেশন (সিএইচটিআইপিওয়াইএফ)।
সংগঠনের দাবি, গত ১লা জুলাই ২০২৫ তারিখে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম রাঙ্গাপানি ছড়া গ্রাম থেকে ছয়জন আদিবাসীকে অপহরণ করে পিসিজেএসএস ক্যাডাররা। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন – ধনমুনি চাকমা (১৯), সুকেশ চাকমা (২২), লক্ষী শান্তি চাকমা (৩৫), ভাঙ্গা হাদা চাকমা (৩৫), শান বিকাশ চাকমা (৩৬) এবং হুল্লায়া চাকমা (২২)।
সিএইচটিআইপিওয়াইএফ এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার (১১ জুলাই) অপহৃতদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পিসিজেএসএস ক্যাডাররা অপহরণের দায় স্বীকার করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ছয় লাখ টাকা দাবি করেছে।
সংগঠনের সভাপতি প্রজ্ঞা তাপস চাকমা অভিযোগ করেন, “সরকার ১৯৯৮ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের আওতায় কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন ছাড়াই গত ২৭ বছর ধরে পিসিজেএসএস-কে ক্ষমতায় রেখেছে। এই বাহিনী অস্ত্রধারী মিলিশিয়া পরিচালনা করে, যারা নিয়মিত আদিবাসী জনগণের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যেহেতু রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ, তাই সন্তু লারমা তাঁর ক্যাডারদের দ্বারা সংঘটিত এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’-এর আওতায় দায়ী হতে পারেন।”
প্রজ্ঞা তাপস চাকমা জানান, ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৪ঠা জুন ২০২৫ তারিখে আগরতলা থেকে ভারতীয় পুলিশ পিসিজেএসএস-এর ১৩ জন ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী বিটু চাকমা নামক এক শিশুসৈন্যও রয়েছে।
এছাড়া ১৯শে জুন ২০২৫, ভারতের মিজোরামের লুংলেই জেলা থেকে আনুমানিক ১০৪.৩ মিলিয়ন টাকার মেথামফেটামিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার পেছনে পিসিজেএসএস-এর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মিজোরাম পুলিশ পিসিজেএসএস ক্যাডার রনি চাকমা, অনির্বাণ চাকমা এবং রিবেং চাকমার কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করে।
প্রজ্ঞা তাপস চাকমা বলেন, “গত ২৭ বছরে পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র কার্যক্রম ও সরকারের নীরব সমর্থনে সংঘটিত সহিংসতায় এক হাজারেরও বেশি আদিবাসী নিহত হয়েছেন।”
সিএইচটিআইপিওয়াইএফ ছয়জন অপহৃত আদিবাসীর নিরাপদ মুক্তির দাবিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার, ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশন এবং বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*