স্বচ্ছতার জাতীয় মঞ্চে কলমের জয়গান: খোয়াইয়ের সম্মানের নেপথ্য কারিগরদের কুর্নিশ পুর পরিষদের, আমাদের খোয়াই প্রতিনিধি পেলেন বিশেষ সম্মাননা

আপডেট প্রতিনিধি, খোয়াই, ০৯ আগস্ট || যখন কোনো শহর জাতীয় স্তরে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পায়, তখন তার কৃতিত্ব সাধারণত প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ঝুলিতেই জমা হয়। কিন্তু খোয়াই পুর পরিষদ এক অনন্য নজির স্থাপন করল। স্বচ্ছ সমীক্ষায় রাজ্যসেরা হওয়ার গৌরব উদযাপনের মঞ্চকে তারা পরিণত করল কৃতজ্ঞতার এক নতুন অধ্যায়ে, যেখানে প্রশাসনের সাফল্যের নেপথ্যে থাকা ‘চতুর্থ স্তম্ভ’-এর অক্লান্ত পরিশ্রমকে জানানো হলো বিনম্র কুর্নিশ। আর এই অনন্য মুহূর্তে, সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের প্রতীক হয়ে উঠলেন ‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ এর সংবাদ প্রতিনিধি তথা বরিষ্ঠ সাংবাদিক গোপাল সিং।
দিল্লীর বিজ্ঞান ভবন থেকে ‘প্রতিশ্রুতিশীল শহর’-এর জাতীয় সম্মান বয়ে আনার পর, খোয়াই পুর পরিষদ আয়োজন করেছিল এক বর্ণাঢ্য ‘আনন্দ উদ্যাপন’ অনুষ্ঠানের। তবে এই অনুষ্ঠান শুধু আত্মপ্রশংসার ছিল না, ছিল সেইসব নেপথ্য কারিগরদের সম্মানিত করার মঞ্চ, যাঁদের নিরন্তর লেখনী, বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা এবং গঠনমূলক পরামর্শ এই সাফল্যকে সম্ভব করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয়, যখন খোয়াইয়ের সাংবাদিকতার অন্যতম পরিচিত মুখ তথা আমাদের খোয়াই প্রতিনিধি এবং বরিষ্ঠ সাংবাদিক গোপাল সিং-কে সম্মাননা জানানোর জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী বিনয় দেববর্মা উত্তরীয় এবং উনার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে একথাই প্রমাণ করলেন যে, প্রশাসনের চোখ যা এড়িয়ে যায়, একজন সাংবাদিকের কলম তা তুলে ধরে। শহরের নর্দমা থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—গোপাল সিং-এর মতো সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি আর নির্ভীক প্রতিবেদনই পুর প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত আরও ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সম্মাননা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন খোয়াই পুর পরিষদের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি শঙ্কু পাল সহ অন্যান্যরা।
এই সম্মাননা শুধু একজন ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়, বরং এটি একটি বার্তার প্রতীক। এই বার্তা হলো—একটি শহর তখনই শ্রেষ্ঠ হতে পারে, যখন প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম পরস্পরের প্রতিপক্ষ না হয়ে, সহযোগী হিসেবে কাজ করে। পুর চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই পুরস্কার খোয়াইয়ের প্রতিটি নাগরিকের। কিন্তু আমাদের এই যাত্রাপথে সাংবাদিকরা ছিলেন সজাগ প্রহরীর মতো।” খোয়াইয়ের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, শাসকের শক্তির পাশাপাশি সমালোচকের কলমের শক্তিকে স্বীকৃতি দিলেই প্রকৃত অর্থে একটি আদর্শ সমাজ ও শহর গড়ে তোলা সম্ভব। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক গোপাল সিং-এর সম্মানিত হওয়া আসলে খোয়াইয়ের বিবেক ও স্বচ্ছতার প্রতি দায়বদ্ধতারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*