শারদোৎসবের আগে সীমান্তে রমরমা পাচার, তিন দিনে ৩০ লক্ষ টাকার মাল আটক—বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ সেপ্টেম্বর || ত্রিপুরা রাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বিএসএফ কতটা সক্রিয়। কিন্তু সীমান্তের লাগোয়া পরিবারের সাথে কথা বললে উঠে আসে এক ভিন্ন চিত্র। অনুপ্রবেশ, পাচার ও কালোবাজারি এখনও প্রবলভাবে সক্রিয়। বিশেষ করে শারদোৎসব ঘনিয়ে এলেই এপার-ওপার বাংলার ব্যবসায়ীদের বোঝাপড়ায় বিপুল পরিমাণ পণ্য সীমান্ত পার হয়। নামমাত্র কিছু সাফল্য ক্যামেরাবন্দী হলেও বাস্তবে বহু মালামাল পাচারের জালে হারিয়ে যায়।
তার মাঝেই সম্প্রতি বিএসএফ-এর একাধিক সাফল্যের খবর সামনে এসেছে। গত ২রা সেপ্টেম্বর
ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের বিএসএফ জওয়ানরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টানা অভিযানে একাধিক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। অভিযানে সিগারেট, মদ ও পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬.৫ লক্ষ টাকা। অপরদিকে ৩রা সেপ্টেম্বর, এক যৌথ অভিযানে বিএসএফ, বনদপ্তর ও ধর্মনগর থানার পুলিশ কর্মীরা উত্তর ত্রিপুরার বীরচন্দ্রপাড়া রিজার্ভ ফরেস্ট (কাঞ্চনপুর) এবং কুকিনালা ফরেস্ট (ধর্মনগর সংলগ্ন) এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চেরাই করা সেগুন কাঠ উদ্ধার করেন। এদিকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর, বিশেষ গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার কমলাসাগর, সেপাহিজলা সীমান্ত এলাকা থেকে পাচারের আগেই ২২.২ লক্ষ টাকার মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করে। এগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তে আনা হয়েছিল।
বিএসএফের অভিযানিক সাফল্য থাকলেও স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত জুড়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অসংখ্য চালান পাচার হচ্ছে। ধরা পড়ছে একাংশ, কিন্তু বৃহৎ অংশ অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শারদোৎসবকে সামনে রেখে পাচার রোধে বিএসএফ কি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে?

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*