গোপাল সিং, খোয়াই, ০১ অক্টোবর || ত্রিপুরার মোহনপুর সড়কে সোমবার গভীর রাতে আড়াই কিলোরও বেশি নিষিদ্ধ বিদেশি পণ্যের চালান ধাক্কা খেয়ে পড়ল—আসাম রাইফেলসের অভিযানে একটি লরির গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৬০ কেজি ৭৭ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আন্তর্জাতিক বাজারে আনুমানিক মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় এক জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, লরিটি শাকসবজি বোঝাই দেখিয়ে চলছিল; তবে চালানটি বস্তার ভেতরে সূক্ষ্মভাবে লুকোনো চেম্বারে রাখা ছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই আসাম রাইফেলস মোহনপুর সড়কে অভিযান পরিচালনা করে এবং বড় মাত্রার মাদকচক্রের এই চালান বাজেয়াপ্ত করে। এক নামহীন বাহিনীর আধিকারিক জানিয়েছিলেন, উৎসবের মরশুমে মাদকচোরাচালানকারীরা বিশেষভাবে সক্রিয় থাকে—তবে এবার তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনাটি আরও চাঞ্চল্যকর হয়েছে এমন এক অভিযোগের কারণে—সূত্র দাবি করছে, পুরো অভিযানে ত্রিপুরা পুলিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অজ্ঞাত রাখা হয়েছিল; সিধাই থানা এবং রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কোনো তথ্য শেয়ার করা হয়নি। এ অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মনোলগ্ন তদন্তের দাবি উঠছে।
আসাম রাইফেলস জানায়, তারা মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে এবং গোটা নেটওয়ার্ক ভাঙার লক্ষ্যে তদন্ত জারি রয়েছে। আটক ব্যক্তির পরিচয় ও অভিযানে ব্যবহৃত লরির উৎস সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি; তদন্তকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাজেয়াপ্ত ইয়াবার পরিমাণ ও চালানের পরিকাঠামো দেখে এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে—যার বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুততরভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে স্থানীয় কিছু সংগঠনও দাবি করেছে। ঘটনায় আরও বিবরণ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্যসহ পরবর্তী প্রতিবেদন দেবো।
