গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ জানুয়ারি || রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ককবরক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত সরকারি ফর্মানে ইতিহাসকে বিকৃত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দুতে ফের তিপ্রাসা স্বার্থ, আর এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নেমেছেন তিপ্রা মথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সম্প্রতি ৯ই জানুয়ারি থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮তম ‘ককবরক সাল–২০২৬’ উদযাপনের নির্দেশ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে এই বিজ্ঞপ্তিতে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ১৯শে জানুয়ারি ‘ককবরক দিবস’-এর কোনও উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তিপ্রাসা সমাজের মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন,
“এই বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ জানুয়ারি ককবরক দিবস সম্পর্কে কিছুই লেখা নেই। এতে রাজ্য সরকারের মনোভাব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। আমি এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।”
তাঁর অভিযোগ, ককবরক ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২রা জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আগরতলার শিক্ষা ভবন থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৯ থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী ককবরক সাল উদযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কোকবরক দিবসের মূল তারিখ ১৯শে জানুয়ারি সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, শিক্ষা দপ্তরের এই ধরনের “তুঘলকি সিদ্ধান্ত” নতুন কিছু নয়। অতীতেও ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কুমন্ত্রণার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ১০,৩২৩ জন চাকুরিচ্যুত শিক্ষকের প্রসঙ্গ টেনে অনেকে বলছেন, তৎকালীন সময়েও শিক্ষা দপ্তরের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছিল রাজ্যবাসীকে।
জনমত অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষক স্বল্পতা, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয় ও শিক্ষা পরিকাঠামো ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দপ্তরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলি শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনওভাবেই সহায়ক হচ্ছে না বলেই মত সচেতন মহলের। ককবরক দিবস সংক্রান্ত এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দপ্তর কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে তিপ্রাসা সমাজসহ গোটা রাজ্যের মানুষ।
